কচু-ঘেচু খেয়ে দিন পার করছেন ওরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, | বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৬
কচু-ঘেচু খেয়ে দিন পার করছেন ওরা
দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি নেমে গেলেও এর জের কাটেনি। দিন ফিরেনি সেই বন্যার্তদের। এখনো তাদের জীবন স্বভাবিক হয়নি। এবারের বন্যায় গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারী গ্রামের বাঁধে আশ্রয় নেয়া মানুষগুলোর জীবনে এখনো কষ্ট কাটেনি। কচু-ঘেচু খেয়ে দিন পার করছেন তারা। সরেজমিনে এমন দৃশ্যই চোখে পড়লো।

কাতলামারীর ওই বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, কেউ রান্না করছেন শুধু কচু, আবার কেউ ছোট মাছ। অস্থায়ী বসবাসের জন্য ডেঁরা দিয়ে ঘর বানিয়েছেন সবাই। ছেলে-মেয়ে, স্বামী-স্ত্রী নিয়ে কষ্টে দিন পার করছেন তারা।

এই মানুষদের এখন বিশেষ প্রয়োজন নিরাপদ পানি, ল্যাট্রিন, খাদ্য ও বসবাসের ঘর। অবশ্য ওয়াটার এইডের সহযোগিতায় এসকেএস ফাউন্ডেশন এই বাঁধের উপর দুইটি টিউব ওয়েল বসিয়ে দিয়েছে।

ওই বাঁধের বাসিন্দা আজাদুলের বাড়ি ছিল ফুলছড়ি ইউনিয়নের কাতলামারী গ্রামে। বন্যায় সব ভেসে গেছে। এখন কোনো সম্পদ নেই তার। পঞ্চাশ হাজার টাকায় দুটি গরু বিক্রি করে এই বাঁধের উপর কোনোনকম ঘর বেঁধেছেন তিনি।

এই বাঁধের গিনি, জুলেখা, মালেকা, রহিমা, মনিকা, সুবাসি, গোলেজা ও পুষ্পদের অভিযোগ এবারের বন্যায় কোনো ত্রাণ জোটেনি তাদের ভাগ্যে।

এই এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুর সবুর জানান, বন্যার সময় বাঁধ ভেঙে ৭ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এর মধ্যে তিন হাজার মানুষ কাতলামারী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নেন।  আড়াইশ পরিবার ঘর থেকে কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি বন্যার সময়। পানি নেমে যাবার পর অনেকেই বাড়ি ফিরে গেলেও এখনো অসহায় তিনশ এই বাঁধের উপরই মানবেতর জীবনযাপন করছে। বন্যার শুরুতে কয়েকবার ত্রাণ দেয়া হলেও এখন তাদের কিছুই দেয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে চোখে পড়ে, দুপুরের প্রচ- রোদে ছোট্ট একটি মেয়ে কচু শাক সিদ্ধ করছে। একটি বাটিতে ভাতের ক্ষুধা নিবারণে সিদ্ধ কচু সিদ্ধ খাচ্ছে।

ওই বাঁধের আরেক বাসিন্দা বিউটি কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, ‘ভাইগো মুই খুব অসহায় মোর কিছুই নাই। জায়গা নাই, ঘর নাই, ছইল দুইটার ভাত দিবার পাই না- হামার কিযে হইবে।’

অপর দিকে মুচি সম্প্রদায়ের ৭টি পরিবার বানের পানিতে ঘরবাড়ি হারিয়ে কাতলামারীর বাঁধে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদের পরিবারের বাবু লাল, মতি লাল, রাজমতি, মিনতি বলেন, বন্যার শুরুতে দুইবার ত্রাণ পেলেও এর পরে আর পাইনি। কাজ-কর্মের সব হাতিয়ার বন্যায় ভেসে গেছে।