তেলের ট্যাংকারে আগুন, দগ্ধ ৬ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর

চাঁদপুর প্রতিনিধি, | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৬
তেলের ট্যাংকারে আগুন, দগ্ধ ৬ জনকে ঢাকায় স্থানান্তর
চাঁদপুরে শহরে জ্বালানি তেলের ট্যাংকারে আগুন লেগে সাতজন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন, এদের ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুইজনসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে পদ্মা অয়েল এজেন্সির গোডাউনে জ্বালানি তেলের ট্যাংকারে এ আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে পুড়ে যায় তিন তলা ভবনের একাংশ। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিটের প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঢাকা মেডিকেলে যাদের স্থানান্তর করা হয়েছে, তারা হলেন- এজেন্সি মালিক মিজানুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, রায়হান, বাদশা মিয়া, বেলাল হোসেন ভূইয়া ও খোকন।

জানা গেছে, তিন তলা ভবনের নিচ তলায় পদ্মা অয়েলের জ্বালানি তেলের একটি গোডাউন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ট্যাংকার থেকে ড্রামে পাম্প মেশিন দিয়ে তেল অপসারণের কাজ চলছিল। এসময় হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই গোডাউনে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারগুলোরও বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। পুড়ে যায় তেলের লরি ও একটি মাইক্রোবাসসহ বাসার অনেক আসবাব।

এই তিনতলা ভবনটি শহর ছাত্রলীগের সভাপতি সোহেল রানার বলে জানা গেছে।

ওই বাসায় থাকা তিনটি পরিবারের লোকজন হুড়োাহুড়ি করে প্রথমে ছাদে উঠেন। পরে আবার নামতে গিয়ে আগুনে দোকানের মালিক ও ফায়ার সার্ভিসের দুই সদস্যসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত ও দগ্ধ হন। এর মধ্যে ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। অন্যদের চিকিৎসা সদর হাসপাতালে চলছে।

চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন কমান্ডার ফারুক হোসাইন ঢাকাটাইমসকে জানান, তাদের ৪টি ইউনিটের সদস্যরা রাত ৩টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. বেলাল হোসাইন ঢাকাটাইমসকে বলেন, অগ্নিদগ্ধ ছয়জনকেই ঢাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এদের মধ্যে চারজনের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ এবং দুইজনের পঞ্চাশ থেকে ষাট ভাগ পুড়ে গেছে।

চাঁদপুর উত্তর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক রতন দত্ত বলেন, আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও এই মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। তবে ওই গোডাউনে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন, গ্যাস সিলিন্ডার ও কেরোসিন ছিল। এছাড়াও যে ট্যাংকারটি তেল নামাচ্ছিল, সেটিতেও তেল ছিল। ট্যাংকারটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং তিন তলা ভবনের অনেকাংশ পুড়ে গেছে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সবুর মণ্ডল জানান, আগুনের খবর পেয়ে প্রশাসনের সবাই ছুটে আসেন।