বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন আমি পূরণ করবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি, | বুধবার, সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৬
বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন আমি পূরণ করবই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আর না খেয়ে থাকবে না। কেউ রোগে ভুগে মারা যাবে না। আমরা বাংলাদেশকে ক্ষুধামুক্ত দেশ গড়ে তুলবই।’
বুধবার (০৭ সেপ্টেম্বর) কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির’ আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
চিলমারীর থানাহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই স্লোগান নিয়ে হতদরিদ্র মানুষের জন্য পল্লী রেশনিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের পর দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধু নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিলেন। দেশে চালের দাম ১০ টাকা থেকে সাড়ে ৩ টাকায় যখন নামিয়ে এনেছিলেন, ঠিক তখনই বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সেই ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন আমি পূরণ করবই।’
তিনি বলেন, ‘একটা মানুষ কষ্টে থাকবে না, একটা মানুষ না খেয়ে থাকবে না, একটা মানুষ গৃহহীন থাকবে না। বন্যায় যাদের ঘরবাড়ি গেছে তাদেরটা তৈরি করে দেওয়ার কথা বলেছি জেলা প্রশাসনকে।’
মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজনীতি করি কাদের জন্য? আপনাদের জন্য। দেশের মানুষ যেন কষ্টে না থাকে সেজন্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার একটা প্রতিজ্ঞা ছিল সুযোগ পেলে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষুধা-দারিদ্রতা দূর করার জন্য কাজ করব। তাতে জাতির পিতার আত্মা শান্তি পাবে।’
কুড়িগ্রামসহ বৃহত্তর রংপুর এলাকায় উন্নয়নের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, এ অঞ্চলে আর কোনো দুর্ভিক্ষ হবে না, মঙ্গা হবে না কেউ না খেয়ে দুঃখে কষ্টে থাকবে না। পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থার জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি।’
খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এম বদরুদ্দোজা স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি জানান, সরকার প্রতি কিলোগ্রাম চালে ২৭ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। সরকারকে মোট দুই হাজার ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
এর আগে বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট এ ইউ পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারযোগে পৌঁছান।
প্রসঙ্গত, এ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৫০ লাখ হতদরিদ্র পরিবার ১০ টাকা কেজিতে প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল পাবে। প্রতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল এবং সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এই পাঁচ মাস কর্মসূচির আওতায় চাল পাবে পরিবারগুলো।
কুড়িগ্রাম জেলার ৯ উপজেলার এক লাখ ২৫ হাজার ২৭৯ পরিবার এ সুবিধার আওতায় আসবে।