ভান্ডারিয়ায় অসহায় মহেন্দ্র’র ঝুপড়ি ঘর থেকে নতুন ঘর মহেন্দ্র.র স্বস্তির নিশ্বাস

পিরোজপুর প্রতিনিধি : | বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৬
ভান্ডারিয়ায় অসহায় মহেন্দ্র’র ঝুপড়ি ঘর থেকে নতুন ঘর মহেন্দ্র.র স্বস্তির নিশ্বাস
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় উপজেলার চরখালী গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ মহেন্দ্রর হালদারকে সহপাঠি চার বন্ধু মিলে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন। বুধবার  মাটিতে পড়ে থাকা মহেন্দ্রকে নতুন ঘর হস্তান্তর করা হয়। সেই সাথে অসহায় বৃদ্ধকে শোবার ঘরে নতুন খাট, বিছানা,বালিশ আর নতুন চাঁদর ও মশারী। সেই সাথে নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র তুলে দেওয়া হয়। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির চার সহপাঠী বন্ধু উন্নয়ন কর্মী সাহিদুর রহমান, আইসিডিডিআরবির গবেষক বিথি বিশ্বাস, ডা. মিশাল পাল আর ডা. দীপা বড়–ুয়া মিলে ঘরহীন নিসঙ্গ বৃদ্ধ মহেন্দ্রর স্বপ্নের বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে ময়মনসিংহের উন্নয়ন সংগঠন আসমানী এ মহতী কাজের সাথে যুক্ত হন। ২৫ দিনের মধ্যেই স্বপ্ন বাড়ি তৈরী হয়ে যায়।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. সাহিদুর রহমান আন্তর্জাতিক সার উন্নয়ন কেন্দ্রের(আইএফডিসি-ইউএসএইড) একটি প্রকল্পের মনিটরিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। সাহিদুর জানালেন, তিনি ওই বৃদ্ধের তার ঘর দেখে হতবাক হয়ে যান। বাড়ি নয় একটা লতা পাতার বাগান । সেখানে ডালপালা আর শত ছিন্ন মলিন কাপড় ছাওয়া খুপড়ি ঘর। তিনি মনস্থির করেন বৃদ্ধের এই আদিম বসতি থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে হবে। তিনি ওই ছেঁড়া খোড়া ঘরের ছবি তুলে গত ২৫ জুলাই  নিজের ফেসবুক ওয়ালে একটি মানবিক স্টাটাস লিখেন। সেখানে তারঁ মানবিক বন্ধুদের সাড়া দেওয়ার আহ্বান জানান । সমমনা মানবিক মানুষের সহায়তা মিলে যায় দ্রুত। গত ২৫ আগস্ট বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। উদ্যোক্তা সাহিদুর রহমান ও সহকর্মী মঠবাড়িয়ার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার কর্মকার মিলে এই কাজের তদারকি করেন। শুধু ঘর নয় মহেন্দ্রর জন্য খাট,নতুন বিছনা, হেরিকেন, নুতন পোষাক, চেয়ার টেবিল,আলনা,হাড়ি পাতিল,সামিয়ানা, বইয়ের তাকসহ ঘরের ভেতরে উপসনালয়ের সিংহাসন দেয়া হয়েছে। সেই সাথে স্বাস্থ্য সম্মত একটি ল্যাট্রিন।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, ভান্ডারিয়ায় উপজেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরবর্তী চরখালী গ্রামের প্রয়াত বসন্ত হালদার  ও মালতি রানী দম্পতির বড় ছেলে মহেন্দ্র হালদার। এসএসসি পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন তিনি। এরপর পরের জমিতে কামলা খেটে জীবন ও জীবিকা চলছিল। মহেন্দ্রর ছোট ভাই জিতেন্দ্র হালদার  ৫ বছর আগে অসুখে ভুগে মারা গেলে মহেন্দ্র চরম বিপাকে পড়ে যান। তাকে দেখারমত আর কেউ থাকেনা। না স্ত্রী না সন্তান কেউ নেই এই কুলে তাঁর। অসহায় মহেন্দ্র জমি জিরেত বলতে তিনকাঠার একটুকরো ভিটে। সেখানে খুপড়ি তুলে চলছিল মহেন্দ্রর জীবন লড়াই। গ্রামের জলাশয়ে জন্মে থাকা নানা জাতের শাক তুলে বাড়ি থেকে এক কিলো মিটার দুরে চরখালী ফেরীঘাটে বিক্রি করেন। এতে তার বড়জোর ৪০/৫০ টাকা রোজগার হয়। এদিয়ে আহার চলে তাঁর। নিজেই রান্না করে দুটো ডালভাত খান। তার  একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড নেই মেলেনি। শাকপাতা কুড়ানোর জীবনে আর কোন আয়ের সংস্থানও নেই। চরখালী ফেরিঘাট বাজারের মসজিদের পাশে পতিত একটু জমিতে মসজিদ কমিটির কাছ থেকে চেয়ে নেন । সেখানে মহেন্দ্র শীতকালীন শাক সবজির আবাদ করেন। সেখানের রোজগার  থেকে মসজিদের উন্নয়নে কিছু দান করেন আর বাকিটা নিজে জীবন ধারনে ব্যয় করেন। কিন্তু বার্ধক্যের শরীরের এখন তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মহেন্দ্র বলেন, আমি একটা ঘরের স্বপ্ন দেখেছি । ভেবেছি স্বপ্নটা ন্বপ্নই থেকে যাবে। ভেবেছি এই খুপড়িতে একদিন মরে পড়ে থাকব। আজ আমার একটা স্বপ্ন পূরণের দিন। যারা এই স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন তাদের আমার দেওয়ার কিছু নাই । শুধু বলি মানুষগুলো যেন ভাল থাকে । এখন মরে গেলেও জীবনে আর কোন দু:খ নাই।

এ বিষয়ে ভান্ডারিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আতিকুল ইসলাম উজ্জল বলেন, ঘরহীন অসহায় বৃদ্ধের জন্য ঘর তুলে দেওয়া আমাদের মানবিক দায়িত্ব । মহেন্দ্রর জন্য কয়েকজন তরুণ ঘর নির্মাণ করেছেন বিষয়টি এ মুহুর্তে আমার জানা ছিলনা। তবে এমন উদ্যোগ মহতী ও প্রশংসনীয়। আমি বৃদ্ধের খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।