মাদারীপুরে ২দিন আটকে রেখে এক কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন

মাদারীপুর প্রতিনিধি ॥ | রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৬
মাদারীপুরে ২দিন আটকে রেখে এক কিশোরকে অমানবিক নির্যাতন
মোবাইল চুরির অভিযোগে মেহেদী হাসান (১৪) নামের এক কিশোরকে ২ দিন বাড়ির উঠোনে গাছের সাথে লোহার শিকল দিয়ে বেধে রেখে অমানবিক নির্যাতন করেছে শিবচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছোট ভাই কামরুল হোসেন বেপারী।
এ ঘটনা ঘটে শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের রহম আলী বেপারী কান্দি গ্রামে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও নির্যাতিত মেহেদীর পরিবার পুলিশকে জানাতে সাহস পায়নি। নির্যাতনকারী প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিতে পারে এ আশঙ্কায় ঐ কিশোরের পরিবার পুলিশকে জানানোর সাহস পায়নি। স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে শিবচর থানার পুলিশ রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় দিকে হাতে-পায় ও গলায় শিকল দেওয়া অবস্থায় মেহেদীকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
স্থানীয়, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিবচরের কাদিরপুর ইউনিয়নের পার্শ¦বর্তী শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বি.কে নগর পশ্চিম কাজী কান্দি গ্রামের মনোয়ার খাঁনের ছেলে মেহেদী হাসান ডিস লাইনের কর্মী। সে বিভিন্ন গ্রামে ডিস লাইনের সংযোগ দিতো এবং মেরামতের কাজ করতো। ডিসকর্মী মেহেদী হাসান ঈদের আগে কামরুল হোসেন বেপারীর ঘরে ডিস লাইনের কাজ করে। এরপর ঐদিন কামরুল হোসেন বেপারীর ২টি মোবাইল সেট হারিয়ে যায়। তাই তারা ডিসকর্মী মেহেদী হাসানকে সন্দেহ করে।
এরই জের ধরে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কামরুল হোসেন বেপারী ডিস লাইনের কাজ করার কথা বলে মেহেদী হাসানকে বাড়িতে ডেকে আনে। মেহেদী হাসান এলে তাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে মারধর করে। একপর্যায় বাড়ির একটি বদ্ধ ঘরে পরে উঠোনের একটি কামরাঙ্গা কাছের সাথে হাত-পায়ে ও গলায় লোহার শিকল বেঁধে আটকে রেখে ২দিন ধরে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এই অমানবিক ঘটনা ঘটলেও কামরুলের বাবা-মা ভয়ে পুলিশকে জানায়নি। স্থানীয়ভাবে পুলিশ খবর পেলে রবিবার বিকেলে সারে ৫টার দিকে মেহেদীকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এই ঘটনায় পুলিশ কামরুল হোসেন বেপারীকে আটক করতে গেলে তার বড় ভাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছাড়িয়ে রাখে। এরপর থেকে সে পলাতক আছে।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।