বরগুনায় একাধিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ আতংকে চলছে পাঠদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, | বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০১৬
বরগুনায় একাধিক বিদ্যালয় ভবন ঝুঁকিপূর্ণ আতংকে চলছে পাঠদান
বরগুনা সদর উপজেলায় ১নং বদরখালী ইউনিয়নে পূর্ব তেতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সরকারী অর্থায়নে নির্মিত দক্ষিণ চরকগাছিয়া বহুমুখী প্রাথমিক বিদ্যালয় আতংকে পাঠদান চলছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল এসব চিত্র। ১৯৯৪ সনে পূর্ব তেতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১৯৯৮ সনে দক্ষিণ চরকগাছিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মিত হয়ে ছিল। কয়েক বছর যেতে না যেতেই পূর্ব তেতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হলেও দক্ষিণ চরকগাছিয়া বহুমুখী প্রাথমিক বিদ্যালয় কষ্টের মধ্যে চলছে পাঠদান। ধীর্ঘদিন ধরে ঝুকিপূর্ণ স্কুলে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। পাঠদানের অনুপযোগী জরাজীর্ণ এই ভবনগুলি জোরাতালি দিয়ে বিকল্প ভবন না থাকায় এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান চলছে। প্রতিদিন শিশুদের স্কুলে দিয়ে অভিভাবকদের আতংকে দিন কাটছে। কখন না শুনে কোন দূর্ঘটনা। প্রতিটি মুহুর্তই চেয়ে থাকে স্কুলের দিকে। ঐ স্কুলের একজন অভিভাবক মোঃ মাসুদ মৃধা জানান পূর্ব তেতুলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যাহা আপনাদের কাছে বলে শেষ করা যাবে না। সামন্য বৃষ্টি হলেই মাথার উপর দিয়ে পানি পড়ে। ছাত্রদের বইখাতা ভিজে যায়। দেয়ালে ও ছাদে ফাটল ধরেছে। যে কোন মুহুর্তেই দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমরা শিক্ষকদের বলেছি যে স্কুলের সামনে খোলা আকাশের নীচে শিশুদের পাঠদান চালাতে। ঐ স্কুলের দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহতাব হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন আমি স্কুলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে সরকার স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে লক্ষ্য রাখছেন। আশাকরি শীঘ্রই এ সমস্যার সমাধান হবে। এরকম কুমড়াখালী গ্রামে পল্লী মঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনটিরও একই অবস্থা। ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক আঃ আজিজ জানান ১৯৯৪ সনে অত্র ভবনটি প্রতিষ্ঠিত হলেও তৎকালীন সময় কাজের মান খুব খারাপ হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনে ফাটল ধরেছে। প্রতিদিনই ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদের ক্লাস করানো হচ্ছে। ইতিপূর্বে ছাদের উপরে পলিথিন বিছিয়ে একটু আস্তর দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতেও বৃষ্টির পানি থামছে না। তিনি বলেন তদন্ত করে এই স্কুলের কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের দিকে লক্ষ্য করে খুব শীঘ্রই একটি ভবনের প্রস্তাব দেন। দক্ষিণ চরকগাছিয়া বহুমুখী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিসেস  সাজেদা বলেন বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে বধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা ও পরীবিক্ষন ইউনিট এনজিওর মধ্যমে সরকারী অর্থে নির্মিত হয় বিল্ডিং , কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন মেরামত বা কোন ধরনের কোন সরকারী অনুদানের দেখা মেলেনি । উপবৃত্তি প্রাপ্ত এ দক্ষিণ চরকগাছিয়া বহুমুখী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোন বেতন ভাতা না পেয়েও নিয়মিত ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান করিয়ে আসছি । এ বিষয় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান এ বিষয় আমি দ্রুত উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নিব ।