ট্রাক চাপায় পিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার শিশু সন্তান

নাটোর প্রতিনিধি, | মঙ্গলবার, অক্টোবর ১১, ২০১৬
ট্রাক চাপায় পিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার শিশু সন্তান
একই মোটর সাইকেলে স্বামী-স্ত্রী, সঙ্গে তাদের শিশু সন্তান। মহাসড়ক ধরে চলছে দুই চাকার যানটি। হেলমেট ছিল না কারও মাথায়। হঠাৎ ট্রাকের ধাক্কা। ছিটকে পড়লেন তিন জনই। এর মধ্যে বাবা মা পড়লেন সড়কের পাশে। আর শিশুটি মূল সড়কে। পরে তাকে পিষ্ট করে চলে যায় ট্রাকটি।

গত রাতে নাটোরের সিংড়া উপজেলার শেরকোল বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শিশুর পল্লবের বয়স হয়েছিল সবে তিন। তার বাবা পুলিশ কর্মকর্তার অসর্তকতায় এই বয়সেই ঝরে গেলো তার জীবন।

সড়ক মহাসড়কে প্রায়ই শিশুদেরকে মোটরসাইকেলে তুলে চলতে দেখা যায়। শিশুটিকে সামনে তেলের ট্যাংকিতে বসিয়ে চলার সময় মাথায় হেলমেট দেখা যায় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই। এই বিপজ্জনক কাজটি না করতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী। কিন্তু সতর্ক হচ্ছেন না অভিভাবকরা। এমনকি সতর্ক নয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও।   

পুলিশ জানায়, সিংড়া থানার উপ-পরিদর্শক সোহেল রানা নাটোর শহরে গিয়েছিলেন পারিবারিক কাজে। ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সোহেলের মোটর সাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় সোহেল ও তার স্ত্রী রাস্তার পশে ছিটকে পড়েন। কিন্তু ট্রাকটি না থেমে চালিয়ে যায় শিশুটির ওপর দিয়ে।

স্থানীয়রা তিন জনকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সিংড়া পৌরসভার মেয়র জান্নাতুল ফেরদৌস ও সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন ম-লসহ পুলিশ সদস্যরা। এসময় হাসপাতাল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

সোহেল রানার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। শিশু পল্লবকে সেখানেই সমাহিত করতে নেয়া হয়েছে।