বকেয়া বেতনের কারণে পরীক্ষা দেয়া হলো না ১৬ শিক্ষার্থীর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, | সোমবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৬
বকেয়া বেতনের কারণে পরীক্ষা দেয়া হলো না ১৬ শিক্ষার্থীর
বকেয়া বেতন ও ফি দিতে না পারায় আসন্ন এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি ১৬ শিক্ষার্থী। রবিবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আরাজী শিংপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই ১৬ শিক্ষার্থী  ও তাদের অভিভাবকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষা শুরুর ১০ মিনিট আগে প্রধান শিক্ষক সকল শিক্ষার্থীকে ডেকে বলেন- যাদের মাসিক বেতন ও পরীক্ষার ফি বাকি আছে, তাদের নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে দেয়া হবে না। এতে ওই ১৬ শিক্ষার্থীর বেতন বকেয়া থাকায় পরীক্ষার রুম থেকে বের করে দেয়া হয়।

শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের নিকট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্নভাবে অনুনয়-বিনয় করলেও তাদের কথায় পাত্তা দেয়নি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের টাকা পরিশোধের সময় না দিয়ে বিদ্যালয় হতে বের করে দেন।

এ বিষয়ে দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আশরাফুল, রতন, গৌরব, অমল পলাশ, অন্তরা, লাকী বলেন, আমরা ২০১৭ সালে আরাজী শিংপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৪৩ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব। দুই-একজন বাদে সকলে পরীক্ষার ফি দিয়েছি। তবে আমাদের ৪-৫ মাস করে মাসিক বেতন বাকি আছে। তাই স্যার আমাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দিলেন না।
শিক্ষার্থী রতনের বাবা ধনজয় বলেন, আমরা গরিব মানুষ। কষ্ট করে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা করাচ্ছি। ছেলের কয়েক মাসের বেতন দিতে পারি নাই। তার জন্য আমার ছেলেকে পরীক্ষা দিতে দিলেন না স্যার। এখন আমরা হতাশ হয়ে পড়েছি। তারা হয়তো এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারবে না।

আরেক শিক্ষার্থী আশরাফুলের বাবা কাশেম বলেন, সরকার যদি শিক্ষার্থীদের বেতন নেয়া বন্ধ করে- তাহলে আমরা গরিবরা উপকৃত হব।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষার্থীরা বেতন না দিলে বিদ্যালয় কিভাবে চালাব। আগে নোটিস দিয়েছি, তাই যেসকল শিক্ষার্থী বেতন পরিশোধ করেনি তাদের পরীক্ষায় অংশ করতে দেয়া হয়নি।

সালন্দর ইউপি চেয়ারম্যান মাহাবুব হোসেন মুকুল বলেন, প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল- শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা হতে বিরত না রেখে টাকা পরিশোধে সময় দেয়া।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, আমি বিষয়টি নিয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে কথা বলে বিষয়টির সমাধান করেছি।