বরগুনার গর্জনবুনিয়ায় ইভটিজিং প্রতিরোধে আহত-১

বরগুনা প্রতিনিধি, | শনিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৬
বরগুনার গর্জনবুনিয়ায় ইভটিজিং প্রতিরোধে আহত-১
বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের গর্জনবুনিয়া এলাকায় মেয়েদেরকে ইভটিজিং করায় বাঁধা প্রদান করতে গেলে সাইফুল নামের কলেজ পড়–য়া একটি ছেলেকে পিটিয়ে আহত করে ইভটিজাররা। জানা গেছে, গত বুধবার গর্জবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির রাবেয়া ও ৭ম শ্রেণি পড়–য়া পারভীনকে ঘনকবর নামক জায়গা থেকে পেরাইভেট পড়া শেষ হলে বাড়িতে যাওয়ার পথে ওই একই এলাকার মোস্তফার ছেলে আসলাম, জলিল মেকারের ছেলে সোহেল, রশিদ কসাইর ছেলে রেজাউল, মালেকের ছেলে নাঈম ওই দিনসহ প্রায়ই ওই মেয়েদর উত্তক্ত করত বলে অভিযোগ করেন হাইস্কুল পড়–য়া দুই ছাত্রী। তারা বলেন, আমাদের প্রায়ই ওই ৪ টি ছেলে মাঝ পথে আটকাতো এবং সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দিত। এমনকি প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করলে ওরা বলে কথাটা মাথায় রাখবেন ম্যাডাম এবং বালিশের সাথে মাথা দিয়ে চিন্তা করবেন। কাল আমাদের উত্তর জেনে নেব। তারই প্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার মেয়েদেরকে আবারও ওই একই পথে আটকালে রাবেয়া ও পারভীনের চাচাত ভাই এম.বালিয়াতলী ইউনিয়নের বানাই ডিএন কলেজের ইন্টারমিডিয়েট ১ম বর্ষের ছাত্র  আনসার উদ্দিন’র ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম তার প্রতিবাদ করে এবং ইভটিজারদেরকে ওই স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে। আর এরই জের ধরে ওই দিনই সন্ধা ৭ টার দিকে গর্জনবুনিয়া বাজারে সাইফুল ‘কানে’ ব্যাথার ওষুধ নিতে আসলে ওই ৪ জনসহ আরো ৭-৮ জন মিলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ক্রিকেট ষ্টাম্প ও গাভের লাঠি দিয়ে এলোপাথারি মারতে শুরু করে এবং এক পর্যায়ে মাথা ফেটে গেলে বেহুশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সাইফুল। পরে স্থানীয়রা মারামারি থামাতে গেলে তাদেরকেও মারার চেষ্টা করে। তবে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে আরো বেশি উপস্থিত হলে ইভটিজাররা পালিয়ে যায়। সাইফুলের অবস্থার অবনতি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাকে এ্যম্বুলেন্সে নিয়ে এসে রাত সাড়ে ১০ টায় বরগুনা সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করালে কর্তব্যরত ডাক্তাররা চিকিৎসা দিয়ে ৩৭ নং বেডে প্রেরণ করে। বর্তমানে সাইফুলের অবস্থা আসঙ্কাজনক। নলটোনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শিল্পপতি হুমায়ুন কবীর ও ওই এলাকার মেম্বর শহীদ চৌধুরী বলেন, যাতে করে এই ঘটনা দ্বিতীয়বার না ঘটে সে ব্যবস্থা আমরা গ্রহন করব। সাইফুলের বাবা-মা বলেন, সাইফুল ও রাবেয়া,পারভীনসহ গোটা ইউনিয়নের মেয়েরা যাতে নির্দিধায় রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেণ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।