জনবল সঙ্কটে ভূগছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ নার্সিং ইনস্টিটিউট

বরগুনা প্রতিনিধি, | মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৫, ২০১৬
জনবল সঙ্কটে ভূগছে বরগুনা জেনারেল
হাসপাতালসহ নার্সিং ইনস্টিটিউট
বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার প্রত্যেকটি মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যাবে স্বাস্থ্য সেবা। অথচ তার এই অঙ্গিকারের মান ক্ষুন্ন করতে কিছু অপ মহল পায়তারা চালাচ্ছেন। বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সঙ্কটসহ নার্সিং ইনস্টিটিউটে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় রুগী ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে অধ্যায়নরত ছাত্রীরা নানামূখী সমস্যার কারণে চিকিৎসা সেবা ও লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দায়সারাভাবে চলছে বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট। সরকারী এ হাসপাতালে যেমন রয়েছে ডাক্তার সঙ্কট তার পাশাপাশি হাসপাতালটিও চলছে জোড়াতালি দিয়ে। ৪২ টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে মাত্র ৭ জন ডাক্তার দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে এ হাসপাতালটি। এর মধ্যে ত্বত্ত্বাবধায়ক ১, সিনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন-১, সিনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারী-১, সিনিয়র কনসালটেন্ট নাক,কান, গলা (ইএনটি) -১, মেডিকেল অফিসার হোমিও-১ ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (ইএমও)-১জন। মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ১জন। এর মধ্যে অনেক ডাক্তাররাই (ডেপুটেশন)’র এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে আসা। বরগুনা সদর হাসপাতালে পোষ্টিং হওয়ার পরেও যে সকল ডাক্তার যোগদান করেন নাই ডাঃ মোঃ জাহিদুল ইসলাম (ইএমও), ডাঃ মো অহিদুল ইসলাম ২মাস থেকে চলে গেছেন। ডাঃ উম্মে জাহিরা পপি (মেডিকেল অফিসার)ঢাকা থেকে পোষ্টিং হয়েছিল।  ডাঃ কাকলি হাসমিনা  (রেডিওলজিস্ট)। ডাঃ মুর্শিদা খাতুন (প্যাথলজিষ্ট)। ৫৯জন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও স্টাফ নার্স ১০জন  মিলে ৬৯টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ২২জন আর শূন্য পদসংখ্যা  রয়েছে ৪৭টি। অন্যদিকে নার্সিং ইনস্টিটিউটে ১৫০ জন ছাত্রীর জন্য ৮জন শিক্ষক থাকার কথা। অথচ ৮ জন মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে ৫ জন দিয়ে চলছে নার্সিং কার্যক্রম। হাসপাতালটির প্রত্যেক বিভাগে প্রয়োজনীয় ডাক্তার নেই, যার দরুণ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রুগীরা। অন্যদিকে নার্সিং ইনস্টিটিউট পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারী বিধি মোতাবেক যতজন লোকবল থাকার কথা আদৌ তা নেই। প্রথম বর্ষ থেকে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত ১৪২ জন ছাত্রীর নিত্যদিন নানা সমস্যার মধ্যে চলছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম এ কথা বলেন, চলতি দায়িত্বে থাকা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ বিলকিস খানম। ২০০৮ সালে বরগুনা নার্সিং ইনস্টিটিউটটি প্রতিষ্ঠিত হলেও তার শিক্ষা কার্যক্রম ২০১০ সাল থেকে শুরু হয়। কিন্তু সঠিক জনবল, পর্যাপ্ত আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি না থাকায় অনেকটাই ব্যাঘাত ঘটছে নার্সিং শিক্ষায়। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষক ও ছাত্রীদের। কেননা পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় একজনকেই নিতে হচ্ছে একাধিক ক্লাস। অপরদিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালটির কার্যক্রম ১৯৮৪ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে শুরু হয়। কিন্তু হাসপাতালটি ১৯৯৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত হলেও  কার্যক্রম সেই ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জনবল দিয়ে। অথচ সেই ৫০ শয্যার জনবলও সঠিকভাবে নেই। বরগুনা জেলার অন্য উপজেলা থেকে ধারকৃত ডাক্তারদের নিয়ে আসলেও ক্ষনিকের জন্য চিকিৎসাসেবার সমাধান হয়। তাও তারা ঠিকভাবে আসছেন না। কেননা তারা একাধিক হাসপাতাল সামলাতে না পেরে বদলী হয়েই চলে যাচ্ছেন অন্যত্র। এতে করে গরীব রোগীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। রোগ নিরাময়ের জন্য আর যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে আছেন তারা পাচ্ছেননা সঠিক চিকিৎসা। আবার অনেকে অভিযোগ করছেন, ডাক্তার থেকেও নেই। অনেক ডাক্তার মাঝে মাঝে হাসপাতালে এসে নিয়ম রক্ষা করেন। কিছুদিন পূর্বে বরগুনা থেকে কয়েকজন ডাক্তার পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় বদলী হয় যার ফলে বরগুনার চিকিৎসা সেবা আরো দুর্বল হয়ে পড়ছে। বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক (ডিডি) বিনয় ভূষন বিশ্বাস কে একাধিক বার এ সমস্যার কথা জানালেও কোন ফল পাওয়া যাচ্ছেনা। জানা গেছে জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও জেলা প্রশাসক ড. মহাঃ বশিরুল আলম অন্তত ১৫-১৬ টি ডিউ লেটার দিয়েছেন তাকে। বরগুনা জেলা শহরের এ সরকারি হাসপাতালে আসা ডাক্তাররা স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় থেকে বদলীর আদেশ নিয়া আসার কারণে তাদেরকে স্থায়ী করা যাচ্ছেনা। কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে তা জানা নেই বরগুনা বাসীর। অবিলম্বে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালসহ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নানামূখী সমস্যার সমাধান হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তা না হলে এই এলাকার মানুষ প্রকৃত ও সঠিক চিকিৎসা সেবা এবং নার্সিং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হতে হবে। এ বিষয়ে হাপাতাল তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ সোহরাব হোসেন জানান, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার নিয়োগ দেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাছাড়া প্রতি মাসের মিটিং এ সমস্যাগুলোর কথা তুলে ধরি। ডাক্তার সঙ্কটের ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধীকবার জানানো হয়েছে। তবে আমরা বেশি কিছু বলতে গেলে আমাদের চাকুরি নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে পড়তে হয়। তিনি আরো বলেন, দক্ষিনের এ জেলা -উপজেলা হাসপাতালের কোন ডাক্তারকে বদলি করার আগে দেখা উচিত ঐ হাসপাতালে কোন ডাক্তার সংকট আছে কিনা যদি সংকট থাকে তাহলে হাসপাতালের চাহিদা পূরন করে ডক্তার বদলি করা উচিৎ। আমার একার উপরে অনেক দায়িত্বভার রয়েছে। আমি চেষ্টা করছি তা সামলানোর। তবে কতটা পারবো আমার তা জানা নেই। আমি মনে করি সর্ব দক্ষিনের জেলা বরগুনায় অনতিবিলম্বে এ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিৎ। নচেৎ রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং দক্ষিনের এই জেলায় স্বাস্থ্য সেবার অভাবে মৃত্যুর হার বাড়তে পারে।