৬ সন্তানের জনক কর্তৃক ভান্ডারিয়ায় শিশু ধর্ষিত; ৫ মাসের অন্তসত্বা

পিরোজপুর প্রতিনিধি, | বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৭, ২০১৬
৬ সন্তানের জনক কর্তৃক
ভান্ডারিয়ায় শিশু ধর্ষিত; ৫ মাসের অন্তসত্বা
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দারুলহুদা গ্রামে অহেজ উদ্দিন মাতুব্বারের  লম্পট ছেলে ৬ সন্তানের জনক মোঃ বুলবুল মাতুব্বার (৪৫) একই গ্রামের ১২ বছরের এক কিশোরিকে জোড় পূর্বক ধর্ষন করলে ওই কিশোরি ৫ মাসের অন্তসত্বা হয়। এ ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে পিরোজপুর শিশু আদালতে দু’জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতার মা পিয়ারা বেগম। অপর আসামী তার ভায়রা আল আমিন (৪০)। মামলা নম্বর ২৩/৬
ধর্ষিতার মা পিয়ারা বেগম জানান,  আমার স্বামী  রফিকুল ইসলাম চুন্ন ঢাকা একটি দোকানের কর্মচারী । আমি বাড়ী ছেলে মেয়ে নিয়ে বসবাস করি। বেশ কিছুদিন যাবৎ লম্পট  বাবুল  বিভিন্ন সময় আমাকে একা পেয়ে বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করত। আমি তাকে এ ব্যাপারে বেশ কয়েক বার শর্তক করেছি এবং আমার বাড়ির আসেপাশে না আসার জন্য বলি। গত ১০ মে আমার বাড়ীতে প্রবেশ করে আমার শিশু কন্যা লাবনী আক্তার (১২) কে জোড়পূর্বক  ধর্ষণ করে প্রতিবেশি অহেজ উদ্দিন মাতুব্বারের ছেলে লম্পট ৬ সন্তানের জনক মোঃ বুলবুল মাতুব্বার। এ সময় ধর্ষিতার মা পিয়ারা বেগম ভান্ডারিয়া বাজারে ছিলো। বাড়িতে কেউ না থাকায়  নাবালিকা কন্যার কাছে লম্পট বুলবুল বনিতা করে এক গ্লাস পানি খেতে চান এবং তার মায়ের কথা জিজ্ঞাস করলে লাবনী জানায় তার মা বাড়িতে নেই। তখন ওই লম্পট তাদের ঘরে প্রবেশ করে তার মূখ চেপে ধরে লাবনীকে জোড় পূর্বক ধর্ষন করে। এবং তার ভায়রা এ সময় তাকে পাহেরা দিচ্ছিল বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। এবং ওই দুই লম্পট যাওয়ার সময় লাবনীকে বলে এ ঘটনা কাউকে জানালে তোকে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে যায়। মা বাড়ি ফিরে মেয়ের মুখ মলিন দেখতে পেয়ে কারন জানতে চায় কিন্তু লাবনী ভয়ে তার মাকে ওই ঘটনা জানায়নি। ঘটনার কয়েক মাস পর মেয়েটি পেটে বড় চাকার মতো হলে মা পিয়ারা বেগম পিরোজপুর সদর হাসপাতালের ডাঃ ফারহানা রহমান কাছে নিয়ে গেলে পরীক্ষা নিরিক্ষা করে লাবনি গর্ভবর্তি হয়েছে বলে জানান।
ধর্ষিতার মা ঘটনার সুষ্ঠ বিচারের দাবী জানিয়ে গত ১০ অক্টোবার শিশু  আদালতে নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করে। কিন্তু লম্পট বুলবুল তাদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে প্রান হুমকি দিচ্ছে।
দারুলহুদা আল-গায্যালী  ইসলামিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার অধ্যক্ষ  আবদুল্লাহ মাহমুদ জানায়, লাবনী অষ্টম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী, তার রোল ০১ সে  এ বার জেডিসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী । ৫ মাসের অন্তসত্বা হওয়ায় তার পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।