হবিগঞ্জ শহরে ধারাবাহিক ডাকাতি, রাত জেগে পাহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, | মঙ্গলবার, নভেম্বর ৮, ২০১৬
হবিগঞ্জ শহরে ধারাবাহিক ডাকাতি, রাত জেগে পাহারা
ছোট জেলা শহর হবিগঞ্জে ঘটছে একের পর এক দুর্ধর্ষ ডাকাতি। মাত্র ৩২ দিনে ছয়টি ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে এই চা-বাগান বেষ্টিত শহরে। এমন ধারাবাহিক  ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে শহরজুড়ে।

পুলিশ প্রশাসনের নেয়া ব্যবস্থাও কোনো কাজে আসছে না বিস্ময়করভাবে। প্রশাসনের নাকের ডগায় ডাকাতির ঘটনা ভাবিয়ে তুলছে খোদ প্রশাসনকে। অগত্যা গত কয়েক দিন ধরে পাড়ায় পাড়ায় চলছে নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা থেকে মাত্র কয়েক শ গজ দূরে ইনাতাবাদ এলাকার দুই প্রবাসীর বাড়িতে একযোগে ডাকাতি হয়। এ সময় ডাকাতরা পরিবারের লোকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে  চলে যায়।

এ ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে একই এলাকার আরেক প্রবাসীর বাড়িতে একই কায়দায় ঘটে ডাকাতির ঘটনা। লুট করা হয় প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল।

কাকতালীয়, একই সময়ের ব্যবধানে গত ৯ অক্টোবর শহরের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা বলে পরিচিত শায়েস্তানগরে ঘটে তৃতীয় ডাকাতির ঘটনা। এখানে  ডাকাতরা লুটপাট করে প্রবাসীর প্রায় ২৫ লাখ টাকার মালামাল।

এ পর্যায়ে এসে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রকাশ্যে ও গোপনে শুরু হয় পুলিশের নানামুখী তৎপরতা। পরবর্তী ১০ দিন আর কোনো ডাকাতি ঘটেনি শহরে।

কিন্তু ১৯ অক্টোবর পুলিশের সব আয়োজন ব্যর্থ করে দিয়ে শহরের নাতিরাবাদে আবার সংঘটিত হয় ডাকাতি। লুট করা হয় তিন লাখ টাকার মালামাল।

এ ঘটনার চার দিন পর ২৩ অক্টোবর শ্যামলী এলাকায় ডাকাতি চেষ্টা চালায় ডাকাতরা। তবে সেখানে  প্রতিরোধের মুখে ফিরে যায় তারা।  

সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর ডাকাতরা হানা দেয় শহরের দক্ষিণ শ্যামলী এলাকায়। লুটে নেয় সেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাসার ২৫ লাখ টাকার মালামাল।

প্রতিটি ডাকাতির ঘটনাই সংঘটিত হয়েছে খোয়াই নদীর কূল ঘেঁষা এলাকায়। অনেকে মনে করেন, খোয়াই নদীর বাঁধই ডাকাতদের অভয়াশ্রম। এলাকাটি প্রশাসনিকভাবে অরক্ষিত হওয়ায় ডাকাতরা খুব সহজেই তাদের কাজ শেষে নদীর ওপারে পালিয়ে যায়।

একর পর এক বেপরোয়া ডাকাতির ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। শহরের পুরান মুন্সেফি, উত্তর শ্যামলী, নাতিরাবাদ, শায়েস্তানগরসহ পাড়ায় পাড়ায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে যুবকদের বিভিন্ন দল। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে অসংখ্য পরিবার। চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে পাড়ায় পাড়ায় জনসচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জ শহরের উত্তর শ্যামলী এলাকার বাসিন্দা বিশিষ্ট মুরব্বি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিনিয়ত ডাকাতির ঘটনায় আমরা উদ্বেগ আর আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছি। রাত হলেই আমাদের চোখে আর ঘুম আসে না। সারাক্ষণ উৎকণ্ঠা- কখন জানি ডাকাত এসে হানা দেয়।’

শহরের নাতিরাবাদ এলাকার বাসিন্দা হাজি রমিজ আলী মিয়া অভিযোগ করেন,  প্রশাসনের গাফলতির কারণে শহরে বেশ কয়েক দিন ধরে ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।

ডাকাত ঠেকাতে পাহারার বিষয়ে শায়েস্তানগর এলাকার বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম গালিব বলেন, ‘হবিগঞ্জ শহরে এক মাসে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত। রাতে আমরা ২০-২৫ জন যুবক মিলে নিজ উদ্যোগে এলাকায় পাহারা দিচ্ছি।’

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসিনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কয়েক দিন ধরে শহরে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে সত্য, তবে তাতে পুলিশের কোনো গাফলতি নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা ডাকাতি রোধে সার্বক্ষণিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

জানতে চাইলে হবিগঞ্জের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুদীপ্ত রায় বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হবিগঞ্জ শহরে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তাই আমরা পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাতের বেলায় টহল ও পাহারা জোরদার করছি।’

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরও জানান, শহরে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের তথ্য ইতিমধ্যে তাদের কাছে এসেছে। কয়েক দিনের মধ্যে ডাকাতরা ধরা পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।