কোনোরকম টিকে আছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা

কুমিল্লা প্রতিনিধি, | শনিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৬
কোনোরকম টিকে আছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা
নানান সমস্যায় জর্জরিত নগরীর একমাত্র বিনোদনকেন্দ্র কুমিল্লা চিড়িয়াখানা। চিড়িয়াখানাটি পর্যটনকেন্দ্রে গড়ে ওঠার বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও কর্তৃপক্ষের সুনজরের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে।

জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় একটু বৃষ্টিতেই। রয়েছে জনবল ও পশু-পাখির সংকট। নেই ভাল সীমানা প্রাচীর, পশু-পাখির খাওয়ার পানির অভাব, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অভাবসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে দীর্ঘদিন। এতে করে দিন দিন দর্শনার্থী হারাচ্ছে চিড়িয়াখানাটি। অথচ এক সময় দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের সমাগমে মুখর থাকত এটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর একমাত্র বিনোদনকেন্দ্রটি একটু নিচু হওয়াই বর্ষার শুরুতেই জলাবদ্ধতা  দেখা দেয়। সৃষ্টি হয় পচা দূষিত কাঁদা ও দুর্গন্ধ। লাগাতার দুই-তিন দিন বৃষ্টি হলে নিষ্কাশনের অভাবে হাঁটু পানির নিচে তুলিয়ে যায় চিড়িয়াখানাটি। নেই পরিচর্যার ছাপ। দেয়ালে রংয়ের ছোঁয়া লাগেনি অনেক বছর। খাঁচার পর খাঁচা ফাঁকা। মাত্র পাঁচ-ছয়টি খাঁচাতে কয়েকটি বন্যপ্রাণী রয়েছে।

পর্যাপ্ত বন্যপ্রাণী নিয়ে যাত্রা শুরু করা চিড়িয়াখানাটি এখন প্রাণি শূন্যখাঁচার পরিণত হচ্ছে। এখন চিড়িয়াখানায় নেই বাঘের গর্জন, অজগরের ফোঁসফাঁস শব্দ, চশমা বানরের অট্টহাসি ও অঙ্গভঙ্গি, ভালুকের রক্তচুক্ষুর চাহনি, দলবেঁধে হরিণের ছোটাছুটি, মূয়রের পেখম তুলে নাচ, আর নেই হনুমানের বাবুগিরি চলাফেরার দৃশ্য।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় ১০ দশমিক ১৫ একর জায়গা নিয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানাটি গড়ে উঠে।

চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে চিড়িয়াখানায় কোনো নতুন প্রাণি আসেনি। তাই দর্শনার্থীর সংখ্যাও নেই বললেই চলে।

চিড়িয়াখানায় টিকেট বিক্রয়কারী নাম প্রকাশ না করে বলেন, দশ টাকার বিনিময়ে ভেতরে গিয়ে পর্যাপ্ত পশু-পাখি দেখতে না পেরে অনেকেই ক্ষুব্ধ হন। প্রতিদিন হাতেগোনা দর্শনার্থীদের আগমন ঘিরে কোনরকম টিকে আছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা।

দর্শনার্থী মামুন ভূইয়া জানান, কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় কেবলই কমে যায় পশু-পাখি। দীর্ঘদিন কোনো নতুন পশুপাখিও আনা হচ্ছে না। অধিকাংশ খাঁচাই শূন্য পড়ে রয়েছে।

চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনের ইজারাদার আনিছুর রহমান বলেন, এক বছরের জন্য গত ২০১৫ সালের জুন মাসে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ইজারা নেয়া হয়। ইজারা নেয়ার সময় চিড়িয়াখানাটি উন্নয়নের জন্য ১৪/১৫টি দাবি প্রশাসনের কাছে জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে চিড়িয়াখানার সীমানা প্রাচীর উঁচুকরণ ও এক হাজার ফুট কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, চিড়িয়াখানার প্রবেশদ্বারে মাটি ভরাট, পানকৌড়ি এলাকায় গ্রিল লাগানো, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, সড়ক উন্নয়ন, পানকৌড়ি রেস্তোরাঁ মেরামত, দর্শনার্থীদের জন্য বড় আকারের চারটি ছাউনি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে বাঘ, ভালুক, ময়ূর ও অন্যান্য পশুপাখি আনা, সার্বক্ষণিক পশুচিকিৎসক, নালার ব্যবস্থা, কর্মচারীর সংখ্যা। কিন্তু এখনও পর্যন্ত এগুলোর ব্যাপারে তেমন কোনো পদপেক্ষ নেয়নি প্রশাসন।

ইজাদার আনিছুর রহমান বলেন, প্রশাসন যদি এক বছরের জন্য ইজারা না দিয়ে ৫ বছর বা ১০ বছরের জন্য নির্ধারণ করত, তাহলে চিড়িয়াখানাটা একটু সাজিয়ে তোলা যেত।

এব্যাপারে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, চিড়িয়াখানাটি একটু নিচু জায়গায় পড়ে যাওয়াতে একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে জলাবদ্ধতার বিষয়টি সিটি কর্পোরেশনের দেখার বিষয়।

পশু-পাখি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের তুলনায় চিড়িয়াখানায় পশু-পাখির পরিমাণ কম।