গলাচিপায় স্বামী-শাশুড়ী- ননদের নির্যাতনের শিকার এক সন্তানের জননী নুপুর !!!

গলাচিপা (পটুয়াখালী ) | শনিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৬
গলাচিপায় স্বামী-শাশুড়ী- ননদের নির্যাতনের শিকার এক সন্তানের জননী নুপুর !!!
পটুয়াখালীর গলাচিপায় যৌতুকের দায়ে নির্যাতনের অভিযোগ এনে স্বামী-শাশুড়ী-ননদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, পটুয়াখালীতে মামলা করেছেন এক সন্তানেনর জননী নুপুর বেগম (২৩)। নুপুর হচ্ছেন পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন বাজারের মো. ফারুক মৃধার মেয়ে। আর আসামী স্বামী হল একই এলাকার মৃত জামাল সরদারের ছেলে মিন্টু সরদার (২৮), শাশুড়ী হল একই এলাকার মৃত জামাল সরদারের স্ত্রী মিনারা বেগম (৪৮) ও ননদ হল উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কোকাইতবক গ্রামের ইসমাইলের স্ত্রী আছমা বেগম (৩১)। মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত ২১/১০/২০১২ ইং তারিখ ইসলামিক শরা শরীয়ত এবং রেজিস্ট্রী কাবিনমুলে নুপুর ও মিন্টু সরদার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিবাহের পর নুপুরের বাবা-মা তাদের সাধ্যমত স্বর্ণালংকার সহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী মিন্টু সরদারকে প্রদান করে নুপুরকে তার স্বামীর বাড়িতে উঠিয়ে দেয়। বিবাহের পর থেকেই অটো বাইক কেনার জন্য নুপুরকে তার বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের দুই লক্ষ টাকা এনে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে স্বামী-শাশুড়ী-ননদ। বিভিন্ন সময়ে শাশুড়ী ও ননদের কু-পরামর্শে স্বামী মিন্টু সরদার নুপুরকে শারিরীক ভাবে নির্যাতন করত এবং মানসিক ভাবে চাপ দিত। নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে স্বামী-শাশুড়ী- ননদের অত্যাচার নিরবে সহ্য করতে থাকে নুপুর। যৌতুকের টাকা দিতে রাজি না হলে এক সময়ে নুপুরের ওপর স্বামী-শাশুড়ী-ননদ অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই নিরুপায় হয়ে নুপুর গত ২৬/১০/২০১৬ ইং তারিখ রোজ বুধবার সকাল ১০ টার দিকে তার বাবা-মাকে তার স্বামীর বাসায় সংবাদ দিয়ে নিয়ে আসেন এবং তাদের কাছে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মিন্টু সরদার লাঠি দিয়ে তার স্ত্রী নুপুরের বাম বাহু ও কাঁধের পিছনে পরপর কয়েকটি বারি মেরে রক্তাক্ত ফুলা জখম করে। পরে নুপুরের শাশুড়ী ও ননদ নুপুরের চুলের মুঠি ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাথারী কিল ঘুষি মেরে রক্তাক্ত ফুলা জখম করে। ওই সময়ে নুপুরের বাবা-মা ও এলাকার লোকজন নুপুরকে তার স্বামী-শাশুড়ী-ননদের হাত থেকে রক্ষা করেন। অতঃপর মিন্টু সরদার তার ঘর থেকে নাবালক সন্তান সহ স্ত্রী নুপুরকে নামিয়ে দেয়। নুপুরের  বাবা-মা নুপুরকে তার স্বামীর ঘরে আশ্রয় দেয়ার জন্য নুপুরের শশুড় বাড়ীর লোকজনের কাছে অনেক অনুনয় বিনয় করলেও শেষ রক্ষা হয়নি। মিন্টু সরদার নুপুরকে এই বলে হুমকি দেয় যে, যৌতুকের দুই লক্ষ টাকা না দিলে তোকে তালাক দিব। পরে নুপুর শারিরীক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার বাব-মা তাকে গলাচিপা উপজেলা স্ব^াস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে, কর্তব্যরত ডাক্তার নুপুরের জখম পরীক্ষান্তে চিকিৎসা করেন। এরপর থেকে নুপুরের ও সন্তানের কোন খোঁজ খবর রাখেনা স্বামী মিন্টু সরদার। নুপুর এখন তার বাবার বাড়িতে সন্তান সহ অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে আপোষের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গত ০৮/১১/২০১৬ ইং তারিখ নুপুর বাদী হয়ে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, পটুয়াখালীতে মামলা করেন। বর্তমানে আসামীরা ঢাকায় গার্মেন্টে  চাকুরী করে। জানা গেছে, এই দম্পতির জামিলা নামে আড়াই বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।  আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ দেন গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার মো. বাবলু প্যাদাকে ।