নীলফামারীতে পুড়ে ছাই ৫৫ বসতঘর

নীলফামারী প্রতিনিধি, | শনিবার, নভেম্বর ১২, ২০১৬
নীলফামারীতে পুড়ে ছাই ৫৫ বসতঘর
নীলফামারী জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের হিন্দু পল্লীতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে ৫৫ পরিবারের বসতঘর। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

শনিবার ভোররাতে ধোপাডাঙ্গা বানিয়াপাড়া হিন্দু পল্লীতে এ আগুন লাগে।

খবর পেয়ে নীলফামারী ও ডোমার উপজেলার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে আসে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যসহ গ্রামবাসীর তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম। তিনি জানান, গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির রান্নাঘরে থাকা পাটখড়ির গাদা হতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ওই পল্লীর ঘনবসতিপূর্ণ অন্যান্য পরিবারের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে একে একে ৫৫টি পরিবারের ১৫০টি টিনের বসতঘর, ঘরে থাকা আসবাবপত্র, জমির কাগজপত্র, গহনা, কাপড়, আলুবীজ, পাট, ধান-চাল, নগদ অর্থ, দুইটি ছাগল, ৫টি বাইসাইকেল, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তক পুড়ে ছাই হয়ে যায়। কেউ কোনো কিছু রক্ষা করতে পারেননি।

গোড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে রাতের খাবার, সকালে নাস্তা ও দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে।

নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, নীলফামারীর দুইটি ও ডোমার উপজেলার একটিসহ মোট তিনটি ইউনিট দীর্ঘ তিনঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, ওই গ্রামের নরেশ চন্দ্র রায়ের বাড়ির রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিট থেকে প্রথমে পাটখড়ির গাদায় আগুন লেগে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এই ঘটনা ঘটে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ বেলায়েত হোসেন জানান, ঘটনাস্থল তিনিসহ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান পরিদর্শন করেন। তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে তিনটি করে কম্বল ও একটি করে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ১৫০টি বসতঘরের তালিকা করা হয়েছে। শনিবার দুপুরের পর ওইসব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর মাঝে জেলা ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে পরিবার প্রতি নগদ দুই হাজার করে টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা লাভলীসহ স্থানীয় নেতারা।