পিরোজপুরে আজো থামেনি স্বজন হারানো কান্নার রোল

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ | সোমবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৬
পিরোজপুরে আজো থামেনি স্বজন হারানো কান্নার রোল
আজ সেই প্রলয়ংকারী  সিডর দিবস ১৫ নভেম্বর। ২০০৭ সালে এই দিনে রাত ১২ ঘন্টায় ২৪০ কিঃ বেগে এক মহা দানবিয় তান্ডব লীলার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয় দেশের দক্ষিণ অঞ্চল। এই ভয়াল রাতের  জলোচ্ছাাসে কেড়ে নেয় অসংখ্য মানুষের জীবন বিধ্বস্থ হয় হাজার হাজার ঘর বাড়ি, গাছপালা, গবাদি পশু। ফলে উপকুলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পরে। শুধু পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় প্রাণহানী ঘটে ১১৭ জন মানুষের। জলোচ্ছ্বাসে কচা ও পোনা নদীতে মুহুর্তের মধ্যে ভেসে যায় বহু ঘর বাড়ী ও জীবন্ত মানুষ। সর্বশান্ত করে দেয় কয়েক হাজার পরিবার। পরদিন সকালে দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্থ ও নিহতদের লাশের পাশে স্বজনদের আহাজারি। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত আর বনাঞ্চল মাটির সাথে মিশে যায়। গাছপালা উপরে পরে, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়। বিদ্যুতের খুটি ভেঙ্গে তার ছিন্ন ভিন্ন হয়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে থাকে প্রায় তিন মাস। টেলিফোন সংযোগও বিছিন্ন হয়ে পরে। সিডরের নয় বছর পেরিয়ে গেলেও পিরোজপুর মানুষ সিডরের ভয়াবহতার স্মৃতির কথা কখনোই ভুলতে পারবেনা। তবে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর কিছুটা আর্থীক সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলেও আজো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষদের প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে বেচে থাকতে হচ্ছে কিন্তু অভাব ও ভয় এখনো তাড়া করে বেড়ায়। এরি মাঝে আবারও ঘুরে আসেছে ভয়াল সেই স্মৃতির দিন সিডর দিবস। গত শনিবার ভা-ারিয়ার ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় দুই হাজার পরিবারদের মাঝে কুয়েত জয়েন্ট রিলিফ কমিটি ত্রান সামগ্রী বিতরন করছে। এছাড়া ২০০৯ সাল থেকে সুদ মুক্ত ঋণ (সহজ কিস্তিতে) দিচ্ছে সিডর  এলাকাবাসীকে মুসলিম এইড বাংলাদেশ নামের একটি  বেসরকারি সংস্থা।