সাঁওতাল পল্লীতে গুলির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক, | বুধবার, নভেম্বর ১৬, ২০১৬
সাঁওতাল পল্লীতে গুলির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনির কলের আখ খামার এলাকার সাঁওতাল পল্লী উচ্ছেদ অভিযানকালে কোন কর্তৃত্ববলে পুলিশ গুলি চালিয়েছে, এর কারণ জানতে চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্রতীসহ তিনটি সংগঠন সাঁওতালদের পক্ষে বুধবার হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করেন।

রিটে উচ্ছেদ অভিযানের সময় হামলার শিকার সাঁওতালদের জানমাল রক্ষায় সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে রুল জারির নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে রিটে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া সাঁওতাল পল্লীর অধিবাসীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রসচিব, শিল্পসচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে রিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটের পক্ষের আইনজীবী জেড আই খান পান্না।

গত ৬ নভেম্বর রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মের বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ও সাঁওতালদের সংঘর্ষ থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। এতে তিন সাঁওতাল নিহত হন, আহত হন অনেকে। পরে পুলিশ-র‌্যাব ওই দিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এক অভিযান চালিয়ে মিলের জমি থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে।

এদিকে কোন কর্তৃত্ববলে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে মঙ্গলবার আইনি নোটিশ পাঠায় দুই সাঁওতাল পরিবার। স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, পুলিশের মহাপরির্শক, গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক, রংপুর রেঞ্জের পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক, গাইবান্ধার পুলিশ সুপার, গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও এবং ওসি ও মহিমগঞ্জের সুগার মিলের ম্যানেজারকে এ নোটিশ পাঠানো হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়। জবাব না পেলে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিজেন টুডোর স্ত্রী অলিভিয়া হ্যামভ্রম ও গনেশ মুরমো’র স্ত্রী রুমিলা কিসকুর পক্ষে পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকাযোগে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে উচ্ছেদের সময় তাদের ওপর হামলা, লুটপাট এবং হত্যাকাণ্ডে দোষীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।