পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে রাসেলের কলম

নাটোর প্রতিনিধি, | রবিবার, নভেম্বর ২০, ২০১৬
পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে রাসেলের কলম
পরীক্ষার কক্ষে সবাই বেঞ্চে বসে একমনে খাতায় লিখে যাচ্ছে প্রশ্নের উত্তর। তাদের পাশে বসে লিখছে আরেক শিক্ষার্থী রাসেল মৃধা। তার হাতে কলম নেই, টেবিলের ওপর নেই পরীক্ষার খাতাও। বিশেষ কৌশলে বেঞ্চের ওপর খাতা রেখে সেখানেই বলেই বাম পায়ের দুই আঙ্গুলের ফাঁকে কলম রেখে মনোযোগ দিয়ে লিখে যাচ্ছে সে।

ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সিংড়া দমদমা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রে এভাবেই অন্য সবার সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে শারীরিক প্রতিবন্ধী রাসেল মৃধা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি তাকে।

সিংড়া পৌর শহরের শোলাকুড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম মৃধার ছেলে রাসেল মৃধা। তার দুই হাত ও একটি পা নেই। শুধুমাত্র একটি ছোট্ট পা দিয়েই চলছে তার জীবন সংগ্রাম। লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ আর মনের জোরে বাম পায়ে কলম ধরে সে পরীক্ষা দিচ্ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও হাল ছাড়েননি রাসেলের বাবা-মা। তাকে স্থানীয় শোলাকুড়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন।

সঙ্গে থাকা রাসেলের মা লাভলী বেগম জানান, তার দুটি সন্তান নিয়ে তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিবন্ধী এই ছেলের বেঁচে থাকার জন্য একটি কর্মই তাদের আশা।

সিংড়া দমদমা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা ও পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব বিলকিস আকতার বানু জানান, শুধু ছোট্ট একটি পা দিয়ে পরীক্ষা দেয়াটা সকলকে বিস্ময় করে তুলেছে। তার জন্য সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধাসহ অতিরিক্ত সময়ও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সিংড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, এটা একটা আশ্চর্যজনক বিষয়। ছেলেটির হাত ও পা না থাকা সত্বেও ছোট্ট একটি পা দিয়ে সুন্দরভাবে লিখে সে পরীক্ষা দিচ্ছে। তার অদম্য স্পৃহা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি কেন্দ্র পরিদর্শন করে তার জন্য সফলতা কামনা করেন।