গলাচিপায় প্রভাবশালীরা চার সন্তানের জননীকে কু-প্রস্তাব ! রাজি না হলে ঘরে আগুন!!

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) | বুধবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৬
গলাচিপায় প্রভাবশালীরা চার সন্তানের জননীকে কু-প্রস্তাব !
রাজি না হলে ঘরে আগুন!!
গলাচিপা উপজেলার ১নং গলাচিপা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া ৮নং ওয়ার্ডে মো:দেলোয়ার গাজীর স্ত্রী মোসা: রুনিয়া বেগম (৩০) কে একই এলাকার মৃত: বজলু মৃধার ছেলে মো: জাহাঙ্গীর মৃধা (৪৫) কু-প্রস্তাবে সারা না দেয়ায় গত ২৮-১০-২০১৬ইং রাতে দেলোয়ার গাজীর বসত ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ব্যাপারে গলাচিপা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রুনিয়া বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। যার স্মারক নং ১৪০৯, ২৯-১২-২০১৬ ইং তারিখের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দে দেয় আদালত। মামলা সুত্রে জানা যায় রুনিয়ার স্বামী একজন জেলে। সে মাছ ধরার কাজে বেশির ভাগ সময় তাকে নদীতে থাকতে হয়। আসামী জাহাঙ্গীর মৃধা এই সুযোগে রুনিয়ার ঘরে আসে এবং বিভিন্ন রকম প্রলভন দেখিয়ে কু-প্রস্তাব দেয়। বাদী রুনিয়া জানায় ঘটনার ৩ দিন আগে রাতে আসামী জাহাঙ্গীর মৃধা আমার ঘরের পাশে আসিলে আমি ও আমার স্বামী দেলোয়ার গাজী লোকজন নিয়া ধাওয়া করি, এতে পরস্ত্রীকাতর জাহাঙ্গীর মৃধা আরও ক্ষিপ্ত হইয়া বলে যে, তোকে দেখাইয়া দেব, এ বলিয়া হুমকি দেয়। ঘটনার দিন ঘরের দরজা লাগিয়ে রুনিয়া তার শশুরের ঘরে চলে যায়, ঘরের আলো না থাকায় আসামী জাহাঙ্গীর মৃধা ভেবেছিল রুনিয়া আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে পরেছে। আর এই সুযোগে রুনিয়াকে পুরিয়ে মারার উদ্দিশ্যে লাঠীর মাথায় কাপর পেচিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে ঘরের মধ্যে নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে ঘরের ভিতর চৌকিতে থাকা কাঁথা, বালিশে আগুন ধরে যায়। এ সময়  রুনিয়া বেগম তার শশুরে ঘর থেকে তার ঘরের মধ্য আগুন দেখে আগুন আগুন বলে চিৎকার দিয়া তার ঘরের দিকে আসিলে বাদী রুনিয়া বেগম পরস্ত্রীকাতর আসামী জাহাঙ্গীর মৃধা কে দৌড়াইয়া পালাইতে যাইতে দেখে। মামলার ১ ও ২ নং সাক্ষী আসামীর ভাতিজা সাংবাদিকদের জানায়, তার বাজার থেকে কেরামবোর্ড খেলে বাড়ির দিকে আসার সময় তাদের চাচা জাহাঙ্গীর মৃধার সাথে দেখা হয় এবং সেই তাদের বলে দিল্লার  (দেলোয়ার) ঘরে আগুন লাগছে মনে হয় বলে বাজারের দিকে চলে যায়। চাচা কথা শুনে দৌড়াইয়া আসি এবং আগুন নিবায়। এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য সাহাজাদা পন্ডিতের কাছে জানতে চাইলে তার  ০১৭৬১৫০৯৩২০ মোবাইলে ফোন দিলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়ান য়ায়। এ ব্যাপারে ইউ/পি: চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাদি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি আদালতে মামলা হয়েছে বলে এলাকাবাসী আমাকে বলেছেন।