মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের স্বেচ্ছাশ্রম- ছাতকে এক বছর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তায় মাঠিকাটা

ছাতক (সুনামগঞ্জ)ঃ | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৮, ২০১৬
মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের স্বেচ্ছাশ্রম-
ছাতকে এক বছর থেকে
স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তায় মাঠিকাটা
ছাতকে দীর্ঘ একবছর থেকে স্বেচ্ছা শ্রমে বিভিন্ন ভাঙ্গা রাস্তায় মাটি ভরাট করছে সুমন মিয়া নামের এক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান। সে ছৈলা-আফজালাবাদ ইউপির বাগইন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মৌরশ আলীর পুত্র। ১৯৭১সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে যারা কালজয়ি হয়েছেন সেসব শ্রেষ্ঠ সন্তাদের অবদানের কথা স্মরনীয় করে রাখার অভিপ্রায়ে একবছর থেকে রাস্তায় স্বেচ্ছাশ্রমে মাঠি কেটে যাচ্ছেন। এখন গোবিন্দঞ্জ ট্রলারঘাট থেকে বিনন্দপুর রাস্তার শ্যামনগর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রজব উদ্দিনের বাড়ির কাছে মাটি ভরাট কাজ করছে। পাকা রাস্তার দু’পাশে মাটি না থাকায় অনেক সময় সিএনজি অটো-রিকশা অটো-টেম্পুও অন্যান্য যানবাহন ওভারটেকিংয়ে মারাত্মক দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। ফলে এ আশংকায় সুমন মিয়া প্রত্যহ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এটিসহ অন্যান্য রাস্তাগুলোতে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি ভরাট করে যাচ্ছে। খাবারসহ বিনিময়ে কেউ কিছু দেয়ার চেষ্টা করলেও সে এসব গ্রহণ করছেনা বলে জানা গেছে। কুদালের সাহায্যে মাটি কেটে একাই টুকরি মাথায় নিয়ে কাজ করছে। বর্ষা মৌসুমে মানুষ চলাচলের রাস্তায় সাঁকো তৈরিসহ বন-জঙ্গল পরিস্কার করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন। সিএনজি চালক আবদুল্লাহর মাধ্যমে সুমন মিয়ার সাথে দেখা হলে জানায়, ১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে যারা অশেষ অবদান রেখেছিলেন সেসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কথা বিবেচনা করে একবছর থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তায় মাটি ভরাট, বর্ষায় সাঁকো তৈরী ও বনজঙ্গল পরিক্ষার করে আসছে। সে পূর্ব বাগইন গ্রামের রাস্তা, লাকেশ্বরবাজার থেকে বুরাইয়া রাস্তা, সোনালী বাংলাবাজার থেকে লাকেশ্বর, গোবিন্দগঞ্জ-বসন্তপুর রাস্তা, বানারশিপুর, ছৈলাগাঁও, কহল্লা, বাউভোগলী, বড়চাল, শরিষপুর, বড় ও ছোট পলিরগাঁও, খলাগাঁও গ্রামসহ ছৈলা-আফজলাবাদ ইউপির অসংখ্য গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তায় মাটি ভরাট করেছে। সর্বশেষ প্রায় দেড়মাস থেকে গোবিন্দগঞ্জ-বিনন্দপুর রাস্তায় কাজ করে যাচ্ছে। সুমন আরো জানায়, প্রথমে কাজ শুরুর পর মালুম নামের এক ব্যক্তি এগুলো মেম্বার-চেয়ারম্যান, এমপি-মন্ত্রীদের কাজ বলে কাজে বাঁধা দিতে থাকে। ২শ’টাকা দিয়ে একটি টুকরিও ৬শ’ টাকা দিয়ে একটি কুদাল ক্রয় করে কাজ শুরু করলে এখন অনেকগুলো টুকরির অস্থিত্ব নেই। সিএনজি স্ট্যান্ডের ম্যানেজার রিহাব মিয়া বলেন, ছেলেটি স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে যাচ্ছে। এক মাস সময়ে একাই যে কাজ করেছে তা ৩০থেকে ৩২হাজার টাকার মাঠির কাজ হতে পারে। একই কথা বললেন, ছৈলা-আফজালাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা রজব উদ্দিন, কবির উদ্দিন লালা, শ্যমনগরের ফরিদ আলী, আঙ্গুর মিয়া, রিপন মিয়া, নুরুল আমীন, দিঘলী চাকলপাড়া গ্রামের রিকশা চালক জমির আলী। ১৯৯৮ইং থেকে মৌরশ আলীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতার মাধ্যমেই চলছে তাদের পরিবার।