বরগুনায় চুরির অভিযোগে এক দরিদ্র জেলেকে নির্যাতন

বরগুনা প্রতিনিধি, | বুধবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৬
বরগুনায় চুরির অভিযোগে এক দরিদ্র জেলেকে নির্যাতন
বরগুনায় মাছ ধরার নৌকা ট্রলার চুরির অভিযোগে এক দরিদ্র জেলেকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে ইউপি সদস্যের সহযোগীরা। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের রায়ভোগ গ্রামে। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী, এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে একই ইউনিয়নের মরখালী গ্রামের অধিবাসী সজীব মাতুব্বরের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা চুরি হয়। গত শনিবার সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের বিষখালী নদীতে নৌকাসহ পশ্চিম রায়ভোগ গ্রামের মো. ইউনুস খানের ছেলে দরিদ্র জেলে জয়নাল খানকে (৩২) আটক করে স্থানীয়রা। ওইদিন রাতেই চুরি হওয়া নৌকাসহ জয়নালকে রায়ভোগ গ্রামের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য জসীম মাতুব্বরের বাড়িতে নিয়ে যায় তারা। ইউপি সদস্য জসীম মাতুব্বরের বাড়িতে আটকে রেখে জয়নালকে মধ্যযুগীয় কায়দায় তার নাভীর উপরে ধান রেখে পায়ের গোড়ালি দিয়ে সজোরে মাড়িয়ে নির্মম নির্যাতন করে ইউপি সদস্য জসীম মাতুব্বরের সহযোগী সেলিম বিশ্বাস, শাহ আলম বিশ্বাস, রাসেল মাতুব্বর। বাড়ি ফিরে জয়নালের হাত পা ফুলে ওঠে। গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়েন জয়নাল। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পেয়ে পুনরায় তাঁকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন ইউপি সদস্য জসীম মাতুব্বর। সেখানে তিনি জয়নালকে আটকে রাখেন যাতে থানায় গিয়ে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ করতে না পারেন। খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি সদস্য জসীম মাতুব্বরের বাড়ি থেকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় জয়নালকে উদ্ধার করে। গুরুতর অসুস্থ্য জেলে জয়নালের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, নানা ভাবে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে তাকে। নাভীর উপরে ধান রেখে পায়ের গোড়ালি দিয়ে মাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তার গোপনাঙ্গেও নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে বারবার। এখন তিনি প্র¯্রাব করতে পারেন না। শরীরের সর্বত্র তার অসহ্য যন্ত্রণা। নির্যাতনকারী সেলিম বিশ্বাসের সঙ্গে তার পূর্ব বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি। স্থানীয় অধিবাসী নেছার উদ্দিন সানু মাতুব্বর (৬০) বলেন, "চুরি করলেও দেশে আইন আছে। এভাবে একটা মানুষের জীবন শেষ করে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। "এ বিষয়ে ইউপি সদস্য জসীম মুতুব্বর বলেন, "চুরি করার পরে লোকলজ্জার ভয়ে সে বাড়ি যেতে পারছিল না, তাই সে আমার বাড়িতে ছিল। বরগুনা থানার এএসআই হাসান জানান, চুরির অভিযোগে নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জয়নালকে তিনি উদ্ধার করে বরগুনা হাসপাতালে ভর্তি করেন। নির্যাতনের বিষয়ে ঢলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল টিটু বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার আগেই স্থানীয়রা কিছু মারধর করেছে তাকে। তার চিকিৎসার ব্যাপারে নিজে তদারকি করছেন বলে জানান তিনি।