গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের দুর্দশা শুনলো আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, | শনিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৬
গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের দুর্দশা শুনলো আওয়ামী লীগ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের জমি থেকে উচ্ছেদের পর দুর্দশায় পড়া সাঁওতালদের বিষয়ে আওয়ামী লীগকে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি। বিকালে সংগঠনের সাত জন নেতা ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের নেতাদেরকে এই প্রতিবেদন দেন। এতে মোট ১০ টি সুপারিশ করা হয়।

বিকাল থেকে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা এই বৈঠক হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সময় উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোন কথা বলা হয়নি। জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বৈঠকে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রণাথ সরেন ও সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভুমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সহ-সভাপতি ফিলিমন বাস্কে, গণেশ মুর্মু, প্রভাত টুডুসহ সাত জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, যেখানে সাঁওতালদের বসতবাড়ি, জমি-ঘর ছিল ঠিক সেই জায়গাটি ফেরত চেয়েছেন। তিনি জানান, ‘সাঁওতালরা বাইরে থাকার কথা ভাবছে না। তাছাড়া গুচ্ছ গ্রামে থাকতে অভ্যস্ত নয় তারা। কারণ যেই জমি থেকে সাঁওতাল.আদিবাসীদের উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে তাদের পূর্ব পুরুষদের সমাধিসৌধ, উপাসনালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্মৃতি রয়েছে।’  

রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেছি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এর সমাধান অবশ্যই করবেন।’

ওবায়দুল কাদেরের কথায় আস্থা ফিরেছে কি না- জানতে চাইলে রবীন্দ্রনাথ সরেন বলেন, ‘তার কথায় আশ্বস্ত হলেও স্বস্তি পাব তখনি যখন দেখব গ্রেপ্তার সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে আর আর্থিকভাবে সহায়তা করা হয়েছে।’

সাঁওতালরা এখন কী অবস্থায় আছে-জানতে চাইলে এই আদিবাসী নেতা বলেন, ‘সাঁওতাল পল্লীর মানুষ শঙ্কিত আছে। ভীতিকর পরিবেশ বিরাজ করছে সেখানে। গত দুই দিন আগেও পুলিশ-সন্ত্রাসী বাহিনীসহ আধিবাসী গ্রামে গিয়েছে, ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে।’

দুই সংগঠনের ১০ সুপারিশ

১. গাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ভুমি নিয়ে আক্রান্ত সাঁওতালদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার ও হয়রানী বন্ধ করতে হবে।

২. বিনষ্ট করা ক্ষেতের ফসল, পুকুরের মাছের ক্ষতিপুরণ দিতে হবে।

৩. নিহত, আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের যথাযথ ক্ষতিপুরণ ও পুর্নবাসন দিতে হবে।

৪. পুড়ে যাওয়া বাসস্থান, স্কুল ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অবিলম্বে তৈরি করে দিতে হবে।

৫. ফার্ম এলাকার আধিবাসীদের বসত ঘেঁষা কাটাতারের বেড়া তুলে দিতে হবে। এই কাঁটাতারের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, গবাদি পশু চরানোসহ নিত্যদিনের সব কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।

৬. ঘামলার পরিকল্পনাকারী, ইন্ধনদাতা ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

৭. পক্ষপাতদুষ্ট ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহার ও শাস্তি দিতে হবে।

৮. সাঁওতালদের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগকারী পুলিশ ও তাদের নির্দেশ দানকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে।

৯. রংপুর চিনিকল মিল অথচ হয়ে যাওয়ার পরে সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের জমিকে অধিগ্রহণের শর্ত ভঙ্গ করে ইজারা দেওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষের অবৈধ কাজ ও দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।

১০. ১৯৬২ সালের চিনিকল মিল অচল হয়ে যাওয়ার পর সহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্মের জমিকে অধিগ্রহণের শর্ত ভঙ্গ করে ইজারা দেওয়ায় মিল কর্তৃপক্ষের অবৈধ কাজ ও দুর্নীতির তদন্ত করতে হবে।