লিটন হত্যা: দিনভর বিক্ষোভে অচল সুন্দরগঞ্জ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি, | রবিবার, জানুয়ারী ১, ২০১৭

লিটন হত্যা: দিনভর বিক্ষোভে অচল সুন্দরগঞ্জ
গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা। দিনব্যাপী দফায় দফায় বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ, পরিবহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে লিটনের অনুসারীরা। তাদের কর্মসূচির কারণে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

শনিবার লিটন হত্যার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে ১৮ জামায়াত শিবির কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে তারা কী জানিয়েছে, এ বিষয়ে কিছু বলছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা।

রবিবার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিক্ষোভ শুরু করে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা। এ সময় বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের দোকানপাট।

বিক্ষোভকারীরা সকালে সুন্দরগঞ্জের লিটন মোড়ে রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ও টায়ার ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এরই সঙ্গে ও লিটন মোড় ও বামনডাঙ্গা রেলস্টেশনের সামনের সড়কে অবরোধ করে তারা। খুনিদের ফাঁসির দাবিতে নানা স্লোগান দেয় তারা। তাদের এই অবস্থানের কারণে সারাদেশের সঙ্গে সুন্দরগঞ্জের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

গত শনিবার দুপুরে জুমার নামাজের পর বাসায় ঢুকে লিটনকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই হত্যার পেছনে শুরু থেকেই জামায়াত-শিবিরের নাম এসেছে। সুন্দরগঞ্জ জামায়াতের সন্ত্রাসকবলিত এলাকা হিসেবেই চিহ্নিত। ২০১৩ সালে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর এবং দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে এই এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিল জামায়াত-কর্মীরা। সংসদ সদস্য লিটন পরে জামায়াত-কর্মীদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন লিটন।

লিটনের অনুসারীরা বলছেন, জামায়াতের আধিপত্য ভেঙে দিতে গত কয়েক বছর ধরে কাজ করছিলেন লিটন। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়েই তারা পরিকল্পিতভাবে এই খুন করেছেন।

লিটন হত্যার পর পুরো উপজেলা জুড়ে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপুর্ণ এলাকায় বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবস্থান করছেন।

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে বলেন, সুন্দরগঞ্জের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃংখলা বাহিনী কাজ করছে। পাশাপাশি খুনিদের খুঁজে বের করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় সবাইকে ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এদিকে লিটনকে হত্যার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এলাকায় জামায়াতের অফিসও বন্ধ হয়ে গেছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই হত্যায় নিজেদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করা হয়েছে।