পঞ্চগড়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন

পঞ্চগড় প্রতিনিধিঃ | মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১০, ২০১৭
পঞ্চগড়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন
পঞ্চগড়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীর প্রবাহ বন্ধ করে অবাধে চলছে বালু উত্তোলন

পঞ্চগড়ে প্রশাসনের চোক ফাঁকি দিয়ে  বিভিন্ন এলাকায় নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহকে বন্ধ করে চলছে পাথর উত্তোলন। কোথাও কোথাও নদী ভরাট করে পাথর তুলছেন এক শ্রেণীর অসাধূ ব্যবসায়ীরা। এতে নদী মানচিত্র থেকে চিরকালের জন্য হারিয়ে যাচ্ছে। ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটছে পঞ্চগড় সদর উপজেলা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার কয়েকটি নদীকে ঘিরে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার চিলকা,ভেরসা,চাওয়াই,করতোয়া এবং ডাহুক সহ বেশ কয়েকটি নদীর গতি প্রবাহকে আটকে দিয়ে এবং নদীর বুকে বালি ফেলে চলছে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব। অনেকে নদী দখল করে নদী থেকে ও পাথর উত্তোলন করছেন।
ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চিলকা নদীর গতি প্রবাহকে আটকে দিয়ে মাঝিপাড়া এলাকায় পাথর উত্তোলন করছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। ছোট এই নদীর গতিকে বালির বাঁধ দিয়ে আটকে দিয়ে পাথরের খাদের বালি নদীর বুকে ফেলার কারনে নদীটি এখন মরা নদীতে পরিনত হয়েছে। স্থানীয়রা জানায় মাঝিপাড়া এলাকার পাথর ব্যবসায়ী ২ ভাই আমিনুর রহমান ও আমিনার রহমান মিলে এই নদীর গতি প্রবাহকে আটকে দিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন। একই উপজেলার খাসমহল এলাকা থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় বিশ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে চিলকা নদী মাঝিপাড়া এলাকায় এসে চাওয়াই নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। এদিকে চিলকা এবং চাওয়াই নদীর মিলন স্থলে চাওয়াই নদী ভরাট করে মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করছেন রুবেল ইসলাম,ফেরদৌস আলী এবং ফারুক হোসেন। এভাবে বালি ভরাট চলতে থাকলে অল্পদিনেই মৃত্যু চাওয়াই নদীর পরিনতিও হবে। এই দুই নদীকে ঘিরে হাজার হাজার কৃষক তাদের ফশল উৎপাদন করছেন। নদী দুটি মরে গেলে হাজার হাজার হেক্টর জমি মরু ভুমিতে পরিনত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ ব্যপারে ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান জানান, আমার ৫ শত বিঘা জমির উপর দিয়ে চিলকা নদী প্রবাহিত হয়েছে। নদীটি আমার ব্যাক্তিগত সম্পত্তি। আমার সম্পত্তিতে আমি যা ইচ্ছা করতে পারি।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাটা পাড়া এলাকায় ভেরসা নদীর গতি প্রবাহ বন্ধ করে পাথর উত্তোলন করছেন ঐ এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তারা নদী ও  নদীর আশে পাশে সরকারি মালিকানার জমিতেও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করছেন।  এ ব্যাপারে  দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে  গণ স্বাক্ষর সম্বলিত একটি অভিযোগও দেয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনের লোক জন, স্থানীয় তহশিলদার পরিদর্শন করলেও অজ্ঞাত কারনে সবাই চুপচাপ। কাটাপাড়া গ্রামের আলিম উদ্দিন (৪৫), মোহাম্মদ আলী (৫০), মোস্তফ্ াকামাল, রবিউল ইসলাম সহ আরও অনেকে এ প্রতিবেদককে জানান পাথর উত্তোলনের বালি দিয়ে মরে যাচ্ছে ভেরসা নদী। বাপ দাদার আমল থেকে নদীটা দেখে আসছি। নদীটা আমাদের কে অনেক কিছু দিয়েছে। নদীটা মরে গেলে হাজার হাজার কৃষক মারাতœক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অসাধু ব্যবসায়ীরা নদী খনন করে পাথর তুলছে। স্থানীয় তহশিলদার সহ প্রশাসনের লোকজনকে জানিয়েছি কিন্তু কাজ হয়না। প্রশাসনের লোকজন ও তহশিলদাররা ঘটনাস্থলে আসে দেখে চল যায়। কিছুই বলে না। তাই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পাথর উত্তোলন করছে।

 অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,ভেরসা নদীর গতি প্রবাহকে আটকে দেয়ার কারনে উজানে হাজার হাজার একর জমি খরা মৌসুমে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে পাথরের খাদের মেশিন দিয়ে উত্তোলিত পানি এবং বালি ভেরসা নদীর গতি প্রবাহকে আটকে দেয়া হয়েছে। ফলে মরে যাচ্ছে ভেরসা নদী। বোদা পাথরাজ ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ভুগোল) মোঃ আলতাফ হোসেন এ প্রতিবেদককে বলেন, নদী ভরাট করে পাথর উত্তোলন করায় একদিকে কৃষকেরা অন্যদিকে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে পারে। এছাড়াও হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। অবাধে পাথর উত্তোলন করায় পঞ্চগড়ে যেকোন সময় ভুমিধ্বসের মতো মারাতœক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল সাংবাদিকদের জানান,পঞ্চগড়ের মাটিতে প্রচুর নুড়ি পাথর রয়েছে। তাই মাটি খনন করে অনেকেই পাথর উত্তোলন করেন। কিন্তু নদী দখল বা ভরাট করে পাথর উত্তোলন করা বে আইনি। বিষয়টি আমি অবগত নই। যারা বে আইনিভাবে পাথর উত্তোলন করবে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।