একটি সেতুর অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ | বুধবার, জানুয়ারী ১১, ২০১৭
একটি সেতুর অভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত
সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার বংশীকুন্ডা ইউনিয়নস্থিত সীমান্তবর্তী মহেশখলা বাজারের একটু পশ্চিম পাশেই রয়েছে ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা মহেশখলা নদী । যে নদীর উপর দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করেন সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার কয়েক হাজার মানুষ । কিন্তু এই নদীর উপর একটি সেতু না থাকায় প্রতিনিয়ত দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন সুনামগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার জনগন ।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত নদীতে সেতু নির্মানের দাবী কওে আসলেও আজো পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি এলাকাবাসীর এই প্রানের দাবী । যার দরুন ব্যাবসায়ীরা ছাড়াও প্রতিনিয়ত যাতায়াত ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন সুনামগঞ্জের মধ্যনগর সীমান্তের বাঙ্গালী ও আদিবাসী অধ্যুষিত মহেশখলার স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থী, দুটি ব্যাটালিয়নের বিজিবির সদস্যসহ উভয় জেলার কয়েক লক্ষ লোকজন ।
সম্প্রতি সরেজমিনে সেখানে গেলে উভয় জেলার সীমান্তবর্তী নানা পেশার লোকজন ও ভোক্তভোগীরা এ প্রতিবেদকের কাছে তাদের বঞ্চনার কথা জানাতে গিয়ে বলেন, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা মহেশখলা নদীটি ধর্মপাশা উপজেলার মহেশখলা বাজারের পশ্চিমপাশ ঘেষে বয়ে গেছে মধ্যনগর থানা অভিমুখে । বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে ভরপুর থাকা মহেশখলা নদীর উপর দিয়ে পার হতে হলে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে কালাগড় খেয়াঘাট হয়ে খেয়া নৌকার ওপর ভরসা করে ঝুকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ যাতায়াতকারী হাজারো লোকজনকে পারাপার হতে হয় ।
হেমন্তকালে বাশের চাটাই দিয়ে তৈরি ব্রীজের উপর দিয়ে মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিক্সা, বাইসাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে হয় । এর জন্য জনপ্রতি ৫ টাকা, সাইকেল ৭ টাকা, মোটর সাইকেল ১০ টাকা ও সিএনজি-অটোরিক্সা ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে টোল দিতে হয় ।
খোজ নিয়ে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলার শেষ সীমানা সংলগ্ন মহেশখলা বাজারটি খুবই প্রসিদ্ধ একটি প্রাচীন গ্রমীন হাট । এ হাটে দু জেলার ব্যাবসায়ীরা কৃষিজপন্য ও গবাদী পশুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব রকম পন্য কেনা-বেচা করতে আসেন সপ্তাহে দুদিন ।

এ ব্যাপারে বংশীকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: বিল্লাল হোসেন বলেন, নেত্রকোনার কলমাকান্দা, সু-সং দূর্গাপুর, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার লোকজন সীমান্তসড়ক ব্যাবহার করে সুনামগঞ্জ ও সিলেটে যেতে হলে মহেশখলা নদী পাড় হয়ে যেতে হয় । কিন্তু নদীর উপর সেতু না থাকায় খেয়া নৌকা আর বাশের চাটাইর উপর দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাচ্ছেন তারা ।
বাগলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহেশখলা গ্রামের প্রদীপ চন্দ্র রায়, তাহিরপুরের বাগলী শুল্ক ষ্টেশনের চুনাপাথর ও কয়লা আমদানীকারক সমিতির বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী লিটন হায়দার, নজরুল ইসলামসহ অনেক ব্যাবসায়ীরা বলেন আমরা ব্যাবসায়ীরাও এই রাস্তাটি ব্যাবহার করে নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে যাতায়াত করি । কিন্তু শুধুমাত্র একটি ব্রীজ না থাকার কারনে মাত্র ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যেতেই আমাদেরকে ৪০০ টাকা ভাড়া গুনতে হয় আর সময়েরও অপচয় হয় অনেক বেশি ।  

নেত্রকোনা-১১ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল তোফায়েল আহমদ চৌধুরী বলেন, আমাদের ব্যাটালিয়নের মহেশখলা ও মোহনপুর দুটি ক্যাম্পের অবস্থান সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের মহেশখলা এলাকায় । অনেক সময় বিজিবি সদস্যদের যাতায়াত, জব্দকৃত চোরাই মালামাল কিংবা মামলার আসামী নিয়ে মধ্যনগর থানা সদওে যেতে হয় । তাই মহেশখলা নদীর ওপর সেতু না থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই সাধারন মানুষের সাথে বিজিবি সদস্যদেরও ঝুকি এবং দূর্ভোগ দু’টাই পোহাতে হচ্ছে ।
সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ পিএসসি বলেন, আমার ব্যাটালিয়নের মাটিরাবন ও বাঙ্গালভিটা বিওপি পড়েছে মধ্যনগরে । কিন্তু মহেশখলা নদীতে সেতু না থাকায় ওই পথে যাতায়াতকারী বিজিবি সদস্যদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো: ইকবাল আহমদের কাছে সেতু নির্মানের   ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত মহেশখলা নদীর ওপড় সেতু নির্মানের কোন পরিকল্পনা নেই ।