তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকাগুলো চোরাচালানীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে

আতিকুর রহমান, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি | শুক্রবার, জানুয়ারী ১৩, ২০১৭
তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকাগুলো চোরাচালানীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে
সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তি উপজেলা তাহিরপুর । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভ’মি নামে পরিচিত এই উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে রয়েছে তটি শুল্কষ্টেশন । যে শুল্ক ষ্টেশনগুলো দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে আসে হাজার হাজার টন কয়লা এবং চুনাপাথর যা থেকে সরকার প্রতি বছর রাজস্ব পায় কোটি কোটি টাকা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাবসায়ীরা ছুটে আসেন এখান থেকে কয়লা এবং চুনাপাথর নেওয়ার জন্য । কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিককালে কিছু অসাধু ব্যাবসায়ী এবং বিজিবির কিছু অসাধু ব্যাক্তিদের  যোগসাজসে সীমান্ত এলাকার চানপুর, বুরুঙ্গাছড়া, বড়ছঢ়া, ট্যাকেরঘাট, লাকমা, লালঘাট, চারাগাও, কলাগাও, সুন্দরবন ও জঙ্গলবাড়ি সীমান্তগুলো দিয়ে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব ফাকি দিয়ে চোরাই পথে জীবনের ঝুকি নিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে শ্রমিকরা প্রতিদিন ওপেনে পাচার করছে কয়লা, চুনাপাথর, মরা সিঙ্গেল, মরা ভুতো ইত্যাদি । । গত এক সপ্তাহে অবৈধভাবে ভারত থেকে প্রায় কয়েক কোটি টাকার কয়লা এবং  চুনাপাথর পাচারের অভিযোগ উঠেছে । এলাকাগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় চোরাচালানীরা বিজিবি ক্যাম্পের পাশ দিয়েই সীমান্তগুলো দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে শত-শত লোক পাঠিয়ে হেমার, শাফলসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ দিয়ে চুনাপাথর ভাঙ্গে এবং ভারতের ছড়ার ভিতর থেকে মরা সিঙ্গেল ও মরা ভুতো তুলে এনে প্রথমে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মজুদ করে । পরে সেই চুনাপাথর ও সিঙ্গেলগুলো ট্রলি দিয়ে বিজিবি ক্যাম্পগুলোর পাশর্^বর্তি রাস্তা দিয়ে নদীর তীরে নিয়ে সংরক্ষন করে এরপর ইঞ্জিনের নৌকা বোঝাই করে নদী পথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠায় । এ ব্যাপারে বিজিবিকে বার বার অবহিত করা হলে তাদেরকে কোন ব্যাবস্থা গ্রহন করতে দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে স্থানীয় লাইসেন্সধারী ব্যাবসায়ীরা জানান আমরা চোরাচালানীরা কম দামে মাল বিক্রি করার কারনে আমরা এলসি ব্যাবসায়ীরা ন্যায্য মূল্যে কয়লা এবং চুনাপাথর বিক্রি করতে পারছি না । আমরা সরকারকে লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব দিয়ে মাল আমদানী করি । অপরদিকে চোরাই কারবারীরা সরকারকে ফাকি দিয়ে অবৈধভাবে এসব কয়লা এবং চুনাপাথর পাচার করে এনে কম মূল্যে বিক্রি করে দেয় যার দরুন হুমকির মুখে পড়তে পারে রাজস্ব ব্যাবসা । এ ব্যাপারে আমরা ব্যাবসায়ীরা বার বার বিজিবির কাছে অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাননি বলে জানান ব্যাবসায়ীরা । ব্যাবসায়ীরা আরো জানান, এসব সীমান্তগুলোতে বিজিবির লাইনম্যান পরিচয় দিয়ে কিছু লোক প্রতি ট্রলি চুনাপাথর পাচারের জন্য বিজিবির নামে প্রতি বস্তা কয়লায় ৫০ টাকা , প্রতি ট্রলি চুনাপাথরে ৪০০ টাকা এবং প্রতি ট্রলি মরা সিঙ্গেলে ও মরা ভুতোতে ২০০ টাকা করে চাদা নিয়ে ভারত থেকে ওপেনে এসব মাল পাচার করছে । এর ফলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হলেও চাদাবাজরা ও চোরাচালানীরা হচ্ছে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ । আর এই চোরাচালান দীর্ঘদিন যাবৎ খোলাখোলি ভাবে চলে আসলেও এসব দেখার যেন কেউ নেই । অথচ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে ১৫০ গজ দূরে দুই দেশের লোকজন অবস্থান করার আইনগত নিয়ম থাকলেও এখানে তা মানছেনা কেউ । এই সীমান্তে আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ করার কেউ নেই । এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নব নির্বাচিত সদস্য তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ৪ বারের চেয়ারম্যান আবুল হুসেন খান জানান, এই মরা সিঙ্গেল এবং মরা ভুতোগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে এবং এগুলো ভেঙ্গে চুনাপাথর ভাঙ্গা এবং জিতা পাথরের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে যা দিয়ে তৈরি হচ্ছে দেশের বড় বড়  রাস্তা-ঘাট এবং স্থাপনা । আর এসব মরা পাথর মিক্স করার কারনে এসব কাজের গুনগত মান নষ্ট হচ্ছে । এই মরা সিঙ্গেল ব্যাবহার করার কারনে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে এসব  রাস্তাঘাট এবং স্থাপনা । তাই এ ব্যাপারে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজর দেওয়া উচিত । এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল নাসির উদ্দিন আহমদ পিএসসি বলেন সীমান্তে চোরাচালানী প্রতিরোধে ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।