নাটোরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

তাপস কুমার, নাটোর: | বৃহস্পতিবার, মার্চ ২, ২০১৭
নাটোরে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর এলাকার গৃহবধু মিনা রানী (১৮) কে যৌতুকের দাবীতে হত্যার দায়ে স্বামী কাজল কুমার সরকার (২২) কে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন  নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালত। সেই সাথে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে, আদায়ান্তে ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত কাজল কুমার সরকার উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর মহল¬ার শ্রী সুকেশ চন্দ্র সরকারের ছেলে। আর মিনা রানী নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়া গ্রামের সদানন্দ পালের মেয়ে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় ওই আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. রেজাউল করিম এই আদেশ দেন। নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০১৫ সালের প্রথম দিকে কোন এক সময়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সাহেবগঞ্জ পালপাড়া গ্রামের সদানন্দ পালের মেয়ে মিনা রানীর (১৮) সাথে কাজল কুমার সরকারের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে ওঠে। পরে দুই পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে একই বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কাজল কুমার সরকার  মোটা অংকের যৌতুকের টাকা দেওয়ার জন্য স্ত্রী মিনা রানীকে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় মাঝে মধ্যেই মিনা রানীর ওপর চালতো গালমন্দসহ নির্যাতন। পরে ২০১৫ সালের ১২ অক্টোবর কাজল কুমার ফের যৌতুকের দাবীতে মিনা রানীকে শারীরিক নির্যাতন করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ওই দিন দিবাগত রাতে নিহতের বাবা সদানন্দ চন্দ্র পাল বাদী হয়ে কাজল কুমার সরকারকে আসামীকে বড়াইগ্রাম থানায় হত্যাসহ নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা রুজু করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানীতে ১৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এতে ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক কাজল কুমার সরকারকে রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যক্রর করার নির্দেশ দেন। মামলায় বাদী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন নাটোর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এ,কে,এম শাজাহান কবির এবং আসামী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন অ্যাডভোকেট হারুনার রশিদ ও অ্যাডভোকেট আলতাফ হোসেন  ।