রোগীর স্বজনকে পিটুনি সাজার প্রতিবাদে ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে সাড়া দেননি চিকিৎসকরা

প্রতীক ওমর, বগুড়া থেকে | শুক্রবার, মার্চ ৩, ২০১৭

রোগীর স্বজনকে পিটুনি
সাজার প্রতিবাদে ইন্টার্নদের কর্মবিরতিতে সাড়া দেননি চিকিৎসকরা

রোগীর স্বজনকে পিটুনি ও কান ধরিয়ে ওঠবস করানোর ঘটনায় চার ইন্টার্ন চিকিৎসককে শাস্তি দেয়ার প্রতিবাদে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাকা কর্মবিরতিতে সাড়া দেননি হাসপাতালের বেশিরভাগ চিকিৎসক। তারা আগের মতোই দায়িত্ব পালন করেছেন দিনভর।  

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও রোগীদের চিকিৎসার তদারকিতে অন্য সময়ের তুলনায় বেশি সতর্ক ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন চিকিৎসকদের উপস্থিতিও ছিল বেশি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর রোগীদের সমস্যা হচ্ছে কি না-সেটি তদারকির জন্য চিকিৎসকদের নিয়েই গঠন করা হয় দুটি কমিটি।

আর কর্মবিরতি আহ্বানকারী চিকিৎসকদের তেমন কোনো তৎপরতাও দেখা যায়নি দিনভর। তাদের সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীরা যোগাযোগও করতে পারেননি। কারণ, তারা এতে রাজি ছিলেন না।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই হাসপাতালে এক নারী চিকিৎসককে আপা বলে ফ্যানের সুইচ কোথায় জানতে চাওয়ার ঘটনায় আলাউদ্দিন নামে এর রোগীর ছেলে আবদুর রউফকে বেদম মারধর ছাড়াও অবমাননাকর সাজা দেন কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক।

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘটনার ভিডিও চিত্র প্রকাশের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমটি গঠন করে। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে আরেকটি কমিটি গঠন করে।

গত বুধবার এই কমিটি প্রতিবেদন দেয়ার পরদিন চার শিক্ষানবীশ চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই সঙ্গে বগুড়ার এই হাসপাতালের বদলে তাদেরকে অন্যত্র ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করলে তাদের পেশাগত সনদ বাতিল করা হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

শাস্তি পাওয়া চার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের মধ্যে নূরজাহান বিনতে ইসলাম নাজকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, আশিকুজ্জামান আসিফকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, কুতুবউদ্দিনকে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং এম এ আল মামুনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে।

এই শাস্তির কথা জানাজানি হওয়ার পর চিকিৎসকদের ফেইসবুক গ্রুপ ‘প্লাটফর্ম’ এ চলছে ব্যাপক প্রচারণা ও জনমত গঠন করা হয় আর শুক্রবার সকাল থেকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতির ডাক দেয়া হয়।

তাদের এই আহ্বানে বৃহস্পতিবার রাত থেকে কয়েকজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসক কাজে যোগ না দিলেও বেশিরভাগই তাতে সাড়া দেননি। আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও হাসপাতালতে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর চিকিৎসাসেবা সঠিকভাবে হচ্ছে কি না এ বিষয়ে দুটি কমিটিও গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।  

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার খালিদ আব্বাস খান বলেন, ‘কিছু ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সকাল থেকেই হাসপাতালে আসেনি। তবে তাদের অনুপস্থিতিতে চিকিৎসার কাজে কোন ব্যাঘাত ঘটছে না। আমরা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

মেডিকেল কলেজের পরিচালক এ কে এম মাসুদ আহসান বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির বিষয়টি তারা আমাকে জানায়নি। তবে তাদের উপস্থিতি কম। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’