মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার সিন্ডিকেট চক্র সক্রীয়

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার | রবিবার, মার্চ ১২, ২০১৭
মৌলভীবাজারে সীমানা পিলার সিন্ডিকেট চক্র সক্রীয়
মৌলভীবাজারে একটি অসাধু প্রতারক চক্রের মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত সীমানা পিলার গুলো কোটি টাকার আশায় স্থানীয় দেশীয় দালালদের মাধ্যমে তুলে নিচ্ছে একটি আন্তর্জাতিক চক্র। মৌলভীবাজারে প্রতারক চক্রের চলমান ঘটনার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ৪নং আপার কাগাবলা ইউপি ৪নং ওয়ার্ডের নরিয়া গ্রামে। জানা গেছে-  নরিয়া গ্রামের প্রবির দেবের বাড়ীর বাশ তলায় নিকটে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত একটি সীমানা পিলার কোটি টাকার আশায় গত ২৮ ফেবব্রুয়ারী রাত ১১টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় মিটিপুর গ্রামের হাকিম উল্লার পুত্র আব্দুন নুর, তার ভাই আনছার মিয়া, নরিয়া গ্রামের সারৎ উল্লার পুত্র কদ্দুস মিয়া ও তার ভাই আব্দুল কাশেম, জবলু মিয়ার পুত্র মশাহিদ মিয়া, ও আহমদ মিয়া প্রবির দেবের বাড়ীর বাশ তলায় গর্ত করতে থাকেন। ১ম পর্যায়ে ব্যর্থ হলে পরদিন অর্থাৎ গত ১মার্চ রাতে আবারও গর্ত করা শুরু করলে এক পর্যায়ে প্রবির দেবের বাড়ীর বাশ তলায় নিকটে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত একটি সীমানা পিলার তুলে নেয়। মৌলভীবাজার এ প্রতারক চক্রের প্রধান আব্দুন নুর ও তার ঢাকাইয়া অপর ২ বন্ধু সীমানা পিলারটি ঢাকার উদ্যাশ্যে নিয়ে চলে যায়। তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ভাগ-বন্টন নিয়ে মনো মালিন্য সৃষ্টি হলে বাঁধ সাঁধে ব্রিটিশ আমলে স্থাপিত সীমানা পিলার উত্তোলনে অংশ নেয়া তারই আপন ভাই আব্দুল কাশেম। সমস্ত ঘটনাই বলে দেয় স্থানীয় লোকজনদেও কাছে। এক পর্যায়ে আব্দুল কাশেম এলাকার স্থানীয় মেম্বার ও প্রতিবেশীদের জানালে ঘটনাস্থলে কৌতুহলী লোকজন আসতে থাকে। সংবাদ পেয়ে এ প্রতিবেদকসহ অপর একজন সাংবাধিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে স্থানীয় একাধিক এলাকাবাসীর মধ্যে কৃঞ্চ দেব, কবির দেব, মন্নাফ মিয়া, কাশেম মিয়া, আলী আহমদ, মোঃ আজির মিয়া, মোঃ বাচ্চু মিয়া, রানু বৈদ্য, কামাল আহমদ, গিয়াস মিয়া, সতেন্দ্র বৈদ্য, মাজেদ চৌধুরী, ফজলু আহমদ, মোফাচ্ছির আহমদ, খয়রুল মিয়া, গোপাল বৈদ্য ও উজ্ঝল বৈদ্যসহ প্রায় শতাধিক লোকজন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন- আব্দুন নুর এলাকায় এর আগেও অনেক নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন-রাত দেশী-বিদেশী, ঢাকাইয়াসহ অপরিচিত লোকজন তার বাড়ীতে আসা যাওয়া এবং রাত্রি যাপন করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আব্দুন নুর এর পিতা হাকিম উল্লাহ বলেন- ঢাকা থেকে কিছু লোকজন আমার বাড়ীতে আসেন এবং রাত্রি যাপন করেন তা সত্য। প্রবির দেবের বাড়ীর বাশ তলায় এক কবিরাজের নির্দেশে গর্ত করা হয়েছে, কিন্ত গর্তে কোন কিছু পাওয়া যাযনি। প্রতিবেশী স্থানীয় মরির আইযুব আলী জানান- বহু দিন যাবৎ আব্দুন নুর আমার কাছে এসে প্রবির দেবের বাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গার সীমানা মেপের মাধ্যমে বুঝার চেস্টা করতো। সে এলাকার একজন চিহিৃত প্রতারক। উল্লেখ্য- গত ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ সন্ধায় একই ইউনিয়নের মোছাঃ রাজনা বেগম নামীয় এক মহিলার পৃর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া পুরাতন একটি পিতলের মৃল্যবান ক্লিপ মোটা অংকের টাকা ফলোবন দিয়ে নিয়ে যায় প্রতারক আব্দুন নুরসহ সিন্ডেকেট চক্র। পরবর্তীতে ঐ মহিলার পুরাতন পিতলের মৃল্যবান ক্লিপ নগদ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে রাখতে চায় প্রতারক চক্রটি। তাদের মাধ্যমে প্রতারনার শিকার ভুক্তভোগী মোছাঃ রাজনা বেগম এ ঘটনায় মৌলভীবাজার মডেল থানায় একই এলাকার হায়দর আলী, স্ত্রী রেনু বেগম, পুত্র আলমঙ্গীর হোসেন, কন্যা নেওয়ারুন বেগম, মৃতঃ মছদ্দর আলীর পুত্র রজব আলী, আব্দুল বারিক এর পুত্র নজির আলীকে আসামী করে মামলা দায়ের করলে মৌলভীবাজার মডেল থানার (বর্তমানে সুনামগনজ ডিবি কার্যালয়ে) এসআই আমিন মামলার তদন্তভার গ্রহন করেন। কিন্তু কালো টাকার কালো ব্যবহারের কারনে সেই অভিযোগ আজও আলোর মুখ দেখেনি। এ ঘটনার সময়ও প্রতারক আব্দুন নুর ঢাকায় নিয়ে পিতলের মৃল্যবান ক্লিপটি বিক্রি করে পুরো টাকাই আন্তসাৎ করে ফেলে। সর্বশেষ ভুক্তভোগী রাজনা একটি মানবাধিকার সংগঠনে আশ্রয় নিলে প্রতারক চক্রের অনুসারীরা ঘটনাটি দামা-চাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী রাজনা বেগম জানান- আব্দুন নুর ও আলমঙ্গীর এর মাধ্যমে ঢাকা থেকে খরিদদার আসলে তারা প্রথমে পরীক্ষা-নিরিক্ষা শেষে একই এলাকার সঞ্জিত ঘোষের মাধ্যমে ২৫ লক্ষ টাকা নির্ধারন করেন। প্রকাশ আবশ্যক, পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়মসহ ধাতব চুম্বকজাতীয় ধাতবের সমন্বয়ে তৈরী বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ফ্রিকুয়েন্সি অনুযায়ী একটি থেকে আরেকটির দুরত্ব মেপে মাটির নীচে সীমানা পিলার পুতে রাখা হয়েছিলো সারা দেশে জুরেই। এর কারনে বজ্রপাতে খুব কম লোকজন মারা যেত। বর্তমানে কিছু প্রতারক চক্রের মাধ্যমে কোটি টাকার আশায় সীমানা পিলার গুলো উটিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারনে বজ্রপাতের প্রভাবের কারনে অনেক লোক মারা যাচ্ছে। এ ব্যপারে জানতে চাইলে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) রওশনুজ্জামান জানান- এ সংক্রান্ত কোন সংবাদ আমরা পাইনি, আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
চলবে-