পাবনায় সাত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবক দিচ্ছেন এইচএসসি পরীক্ষা

পাবনা প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৬, ২০১৭
পাবনায় সাত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবক দিচ্ছেন এইচএসসি পরীক্ষা
একজন স্বাভাবিক ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে একজন অন্ধ ব্যক্তির দুর্ভাগ্য বর্ণনা করা অসম্ভব। একজন অন্ধ কিংবা দৃষ্টিহীন ব্যক্তিই কেবল বুঝতে পারে তার যন্ত্রণা কী! চোখে নেই আলোর ছটা। কেবল মনের আলোয় জীবনের জয়কে হাতের মুঠোয় নিতে চাইছেন পাবনার সাতজন।

প্রতিটি ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় কষ্ট এবং অসুবিধার স্বীকার এ মানুষগুলোর জীবনে একরাশ আলোর সুবাতাসের আশায় পাবনা থেকে এবার সাত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবক চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছে। তারা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার জন্য শ্রুতিলেখকের সহায়তায় পাবনা শহীদ এম মুনসুর আলী কলেজ ও পাবনা টাউন গার্লস্ স্কুল কেন্দ্রে থেকে এইসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

দরিদ্র এসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবক এ সংগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি যোগ হয়েছে নানা ধরনের আর্থ-সামাজিক প্রতিকূলতা। সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে সোনালী ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন এই সাত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী।

জানা যায়, চট্টগ্রামের রবিউল ইসলাম, নরসিংদীর পেতিপলাশি গ্রামের মো. আবদুল্লাহ, ঢাকার সাভারের ভবানিপুর গ্রামের মো. রবিউল ইসলাম, মাদারীপুরের বাগমাড়া গ্রামের সুমন আহম্মেদ চৌধুরী, পাবনা সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মো. জামিল হোসেন, পাবনা সুজানগর দুর্গাপুরের মো. মুনসুর আলী ও পাবনা চাটমোহর গৌর নগর গ্রামের মাহবুবুল আলম এই সাত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এ পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলে শ্রুতিলেখকদের শোনান এবং শ্রুতিলেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনান। এ কারণে তাদের জন্য তিন ঘণ্টার অতিরিক্ত মাত্র ২৫ মিনিট বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে।

এসময় যথেষ্ট নয় বলে তারা দাবি করেন তারা। অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধের শ্রুতিলেখক সম্মানী তো দূরের কথা লেখাপড়ার করার ন্যূনতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তারপরেও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন।

এই সাতজন পরীক্ষার্থীর মতো আরও প্রায় ৫২ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখাপড়া করছেন। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ছয়জন নবম শ্রেণিতে, ১০ম শ্রেণিতে সাতজন, একাদশে ছয়জন ও দুজন এমএসহ বিভিন্ন শ্রেণিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

মানব কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান (অব.) অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পৃষ্টপোষকতা দেয়া হলে সারা দেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে সম্ভব।