মাদারীপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে গাছের সাথে বেধে মারধর : উল্টো চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক কারাগারে ॥ প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা

মাদারীপুর প্রতিনিধি | শনিবার, এপ্রিল ৮, ২০১৭
মাদারীপুরে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিককে গাছের সাথে বেধে মারধর :
উল্টো চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক কারাগারে ॥ প্রতিবাদে বিক্ষোভ সভা
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রচারণার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন কালকিনি প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক যায়যায় দিন পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম।
হামলার শিকার হলেও উল্টো চাঁদাবাজির মামলায় শনিবার দুপুরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে ঐ সাংবাদিককে।
অপরদিকে এই ঘটনায় সাংবাদিকমহলসহ বিভিন্ন মহলে নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে দুপুরে স্থানীয় দৈনিক সুবর্ণগ্রাম পত্রিকা অফিসে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়াও আজ রবিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
স্থানীয়, সাংবাদিক পরিবার, পুলিশসহ একাধিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার সংবাদ সংগ্রহ করতে পূর্ব এনায়েত নগর ইউনিয়নে যান সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম। নির্বাচনী প্রচারণার ছবি তুলতে গেলে সাংবাদিক শহিদুল ইসলামের উপর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাদল তালুকদারসহ তার সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে গাছের সাথে বেধে নির্যাতন চালানো হয়।
তাৎক্ষণিক থানায় খবর দিলে পুলিশ ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে কালকিনি থানায় নিয়ে আসে। এ সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছোট ভাই সরোয়ার তালুকদার (৩০) ও নাজমুল খান (১৭) নামে দুইজনকে আটকও করা হয়।
ঐ দিন বিকেলে এ বিষয়ে থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপের মুখে পড়ে ওই সাংবাদিকের মামলা না নিয়ে উল্টো থানায় তাকে আটকে রাখা হয়। এরপর সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরে রাতে চাঁদাবাজির মামলায় শহিদুলকে গ্রেফতার করে কালকিনি থানা পুলিশ।
শনিবার সকালে সাংবাদিক শহিদুল ইসলামকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানী শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজসহ বিভিন্ন মহল।
দুপুরে স্থানীয় দৈনিক সুবর্ণগ্রাম কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান, জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহমুদ আবীর, ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম মিলন, যুবলীগ নেতা আবু সাঈদ রাজু, মাহমুদ হাসান সোহান, ফোরকান আহম্মেদ নাইম, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাব্বির হোসেন আজিজ, আরিফুর রহমান, সাংবাদিক শহীদুল ইসলামের ভাই সাইদ সরদার ও তার স্ত্রী সালমা বেগমসহ অন্যরা।
সভায় স্বিদ্ধান্ত হয়, দ্রুত সাংবাদিক শহিদুল ইসলামের মুক্তিসহ এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িতের শাস্তির দাবী জানিয়ে রবিবার সকাল ১০টায় মাদারীপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।
সাংবাদিক শহিদুল ইসলামের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, পূর্বে এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাদল তালুকদারের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রচার করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। হামলা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি উল্টো বাদল তালুকদার তার ভাই দেলোয়ার তালুকদারকে দিয়ে চাদাবাজির মামলা দিয়ে আমার স্বামী শহিদুল ইসলামকে জেলে পাঠিয়েছে। আমি এই অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান বলেন, বাদল তালুকদার একজন সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে। তার বিরুদ্ধে সংবাদ করায় আজ সাংবাদিক শহীদুল ইসলামের উপর হামলা হওয়ার পরও কোন বিচার না পেয়ে উল্টো চাদাবাজির মামলা করে জেলে পাঠিয়েছে। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। দ্রুত সাংবাদিক শহিদুল ইসলামের মুক্তিসহ অপরাধীদের বিচারের দাবী জানাই।
তবে, এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হয়নি পুলিশ।