স্লুইচ গেট চায় ভৈরবের জোয়ানশাহী হাওরবাসী

ভৈরব প্রতিনিধি | রবিবার, এপ্রিল ২৩, ২০১৭

স্লুইচ গেট চায় ভৈরবের জোয়ানশাহী হাওরবাসী
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সবচেয়ে বড় হাওর জোয়ানশাহী হাওরে এখন আধা-পাকা বোরো ধানের সমারোহ। ধানের সম্ভাব্য ভালো ফলনে ওই হাওরের কৃষকের চোখে সুখের ঝিলিক নেচে ওঠার কথা। কিন্তু সে চোখে নেচে ওঠছে দুঃস্বপ্ন আর কপালে দুঃশ্চিন্তার রেখা। কারণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওরাঞ্চল সুনামগঞ্জ, সিলেট, নেত্রকোণা আর কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ফসল তলিয়ে উজানের পানি ধেয়ে আসছে ভাটি অঞ্চল ভৈরবের দিকে। আর এখানকার একমাত্র বড় হাওরটি মেঘনার কোল ঘেঁষা হওয়ায়, বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সময় পার করছেন কৃষকরা।

ভৈরব উপজেলার আগানগর, শ্রীনগর আর সাদেকপুর ইউনিয়নের চার হাজার হেক্টর আয়তনের জোয়ানশাহী হাওর। যার প্রায় পুরোটাতে আবাদ হয় বোরো ধান। কৃষকদের ঘামঝরা শ্রমের বিনিময়ে এখন হাওরজুড়ে আধা-পাকা ধানের সমারোহ। মৃদু বাতাসে দুলছে ধানের শীষ। আর কিছুদিন পর থেকেই সে ধান কাটা শুরু হওয়ার কথা। ভালো ফলনের ধানে কৃষকের গোলা ভরে ওঠার কথা।

কিন্তু সে স্বপ্নে বাধ সেঁধেছে প্রমত্তা মেঘনা সংযুক্ত ওরারখাল নামের জোয়ানশাহী হাওরের খালটি। উজান থেকে নেমে আসা পানি ওই খাল দিয়ে হাওরে ঢুকে ধান তলিয়ে নেয়ার আশংকা তৈরি করেছে। তাই কৃষকদের প্রতিটি দিন কাটছে চরম উৎকণ্ঠায়। নদীতে জোয়ার দেখলেই দল বেঁধে তারা ছুটে যাচ্ছেন খালের কাছে। বালির বস্তা আর মাটি ফেলে খালের মাঝে অস্থায়ী বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি আটকানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ওরারখাল দিয়ে জোয়ার এবং উজানের পানি ঢুকে প্রায় প্রতি বছরই তাদের বোরো ধানের জমি তলিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এর সমাধানে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুইচ গেট নির্মাণের দাবি করে আসছেন। কিন্তু তাদের সে দাবি আজো বাস্তবতার মুখ দেখেনি। তারা আবারো তাদের কষ্টের ফসল রক্ষায় একটি    স্লুইচ গেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের বলেন, উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের কৃষকরা এই  হাওরের একটি মাত্র ফসলের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর ওরারখাল দিয়ে হাওরে পানি ঢুকে তাদের সেই ফসল তলিয়ে নিয়ে যায়। সে ফসল রক্ষায় দ্রুত একটি স্লুইচ গেইট নির্মাণের দাবি জানালেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন জানান, ওরারখাল দিয়ে জোয়ানশাহী হাওরে পানি ঢুকে কৃষকের অপূরণীয় ক্ষতির হয়। একটি স্লুইচ গেট নির্মাণ হলে এই হাওরে কৃষকদের ফসল রক্ষাসহ মৎস্য সম্পদেরও উন্নয়ন হবে বলে তার অভিমত।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা আহমেদ জানান, ফসল রক্ষায় একটি স্লুইচ গেইট নির্মাণ স্থানীয় লোকজনের বহুদিনের দাবি বলে উল্লেখ করে তিনি জোয়ানশাহী হাওর এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথাও বলেছেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে এর মধ্যে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। খুব দ্রুত ওই প্রস্তাবনার ফলাফল জানা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।