কুলাউড়ায় সৎ মা-বোনদেরকে ঘর ছাড়াতে মারপিট করার অভিযোগ

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার | সোমবার, এপ্রিল ২৪, ২০১৭
কুলাউড়ায় সৎ মা-বোনদেরকে ঘর ছাড়াতে মারপিট করার অভিযোগ
 কুলাউড়ায় বসতঘর পুড়ে সর্বস্ব হারিয়ে দীর্ঘ ১১ দিন খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপনের পর বাড়ির অপর গৃহের একটি কক্ষে ঠাই পাওয়া সেই সৎ মা-বোনদেরকে এবার ঘর ছাড়ার জন্য মারধোর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর মানবিক আবেদন ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা গেছে- গত ২০ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সৎ পুত্র চিনু মিয়া, দুদু মিয়া ও চিনু মিয়ার পুত্র সুমেল একযোগে সৎ বোন ফারজানা ইয়াসমিন খেলুকে এলাপাতাড়ি মারপিট করেন এবং ৩ দিনের মধ্যে বসতঘর ছেড়ে না গেলে সবাইকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খুন করবে বলে হুমকী দেন। এতেকরে, তারা যেকোন সময় সৎ মা-বোনদেরকে খুন, জখম বা বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটাতে বা জোরপূর্বক বসত ঘরছাড়া করতে পারে এ আশংকায় ফারজানা ইয়াসমিন খেলু ওইদিনই মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর মানবিক আবেদন দাখিল করেন। ঘটনার পর থেকে চরম আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন সৎ মা-বোনেরা।  উল্লেখ্য- মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নস্থিত আলীনগর (উছমানপুর) গ্রামের মৃত: আপ্তাব মিয়া তার প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ২ পুত্র ও ১ কন্যা এবং ২য় স্ত্রী ও ৬ কন্যাসন্তান (৩ জন বিবাহিত) রেখে ১৯৯৯ সালে মৃত্যুবরণ করার পর থেকেই প্রথম স্ত্রীর গর্ভজাত ২ পুত্র চিনু মিয়া ও দুদু মিয়া সৎ মা-বোনদেরকে উচ্ছেদ করে পুরো বাড়ি দখলে নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। ফলে, বেশকিছু  ঘটনা-দূর্ঘটনা, ২০১১ সালে সৎ মায়ের ঘরের বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন ইত্যাদি ছাড়াও সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। উচ্ছেদ প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার জুমআর নামাজের পর সংঘটিত হয় ভয়াবহ অগ্নিকান্ড। এ অগ্নিকান্ডের সময় ৩ কন্যাসহ সৎ মায়ের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে কুলাউড়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সৎ মায়ের বসতগৃহসহ সর্বস্ব। জমির দলিল, শিক্ষাসনদ, কাপড়-চোপড়, সোনা-গহনা, আসবাবপত্র ইত্যাদি সবকিছু পুড়ে আনুমানিক ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের হয়। সেই থেকে ৩ কন্যাসহ সৎ মা ৭ মার্চ পর্যন্ত খোলা আকাশের নীচে থাকার পর তাদের ঠাই হয় বাড়ির অপর গৃহের একটি কক্ষে। এর কয়দিন যেতে না যেতেই এক রাতে ঠিল ছুড়– হয় তাদের কক্ষে। এরপর গত ২০ এপ্রিল সকাল ৮টার দিকে সৎ পুত্র চিনু মিয়া, দুদু মিয়া ও চিনু মিয়ার পুত্র সুমেল একযোগে সৎ বোন ফারজানা ইয়াসমিন খেলুকে এলাপাতাড়ি মারপিট করেন এবং ৩ দিনের মধ্যে বসতঘর ছেড়ে না গেলে সবাইকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খুন করা হবে বলে হুমকী দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলো।