পঞ্চগড়ে জামায়াত শিবিরের নামে জঙ্গি কর্মকান্ড বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।

মোঃ হোসাইন | শনিবার, এপ্রিল ২৯, ২০১৭
পঞ্চগড়ে জামায়াত শিবিরের নামে জঙ্গি কর্মকান্ড বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।


পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ৮নং দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জ প্রধানাবাদ গ্রামের জামায়াত শিবিরের নামে জঙ্গি কর্মকান্ড বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা। প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগে জানা যায়, জয়নাল আবেদীন এর ছেলে আবুল কাশেম জামায়াত শিবিরের নামে দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। গোপন সূত্র ধরে ওই এলাকার বাসিন্দরা জানান, এই আবুল কাশেম প্রধানাবাদ

ছালেহীয়া দাখিল মাদরাসায় লেখা পড়া করা কালীন শিবিরের সক্রিয় কর্মী ছিল। মাদরাসা হতে দাখিল পরীক্ষায় পাশ করার পর বোদা উপজেলার বেংহাড়ী ইউনিয়নের মানিক পীর ফাজিল মাদরাসা হতে আলিম ও ফাজিল পাশ করে। ওই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র থাকা অবস্থায় শিবিরের মিছিল মিটিং ও

আলোচনায় অংশ নিত। গরীব শ্রেণীর ছাত্রদেরকে শিবিরের রাজনীতি করার জন্য এবং ছাত্র শিবিরে যোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করত। এমন কি আবুল কাশেম এর পরিবার অস্বচ্ছল হওয়ায় শিবিরের নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা পয়সা চাদা উঠাতো এবং সেই টাকা দিয়ে তার পড়াশুনার খরচ মেটাত। আবুল কাশেম ছাত্রত্ব শেষ হওয়ার করার পর সে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেয়। পরিবার অস্বচ্ছল হওয়ায় অনেক দেনদরবার করে আরডিআরএস নামে এক বেসরকারি সংস্থায় চাকুরী নেয়। সেখানে চাকুরী করার পর কর্তৃপক্ষ যখন জানতে পারে সে ছাত্র শিবিরে ক্যাডার ছিল তখন তাকে চাকুরী চ্যুত করে। চাকুরী চ্যুত হবার পর পূনরায় আবার জামায়াত শিবিরের রাজনীতির নামে জঙ্গি কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। জামায়াত শিবিরের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের হাতে পায়ে ধরে পরিবারের অস্বচ্ছলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং জামায়াত শিবিরের ক্যাডার হওয়ায় আবুল কাশেম ইসলামী ব্যাংক

বাংলাদেশ লিমিটেড এ আরডিএস প্রকল্পে ফিল্ড অফিসার পদে চাকুরী নেয়। আবুল কাশেম বর্তমানে পঞ্চগড় শাখায় কর্মরত আছে। তার বাড়ি দেবীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারে হওয়ায় সে প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি আসে এবং রবিবার সকালে পঞ্চগড়ে যায়। বাড়ি আসার পর সব সময়ে এলাকার তরুন ছেলেদের সাথে চলাফেরা করত ও জামায়াত শিবিরের রাজনীতি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করত এবং সদস্য সংগ্রহ করত। আবুল কাশেম ওইসব ছেলেদেরকে  বলতো আমি জামায়াত শিবিরের ক্যাডার হওয়ায় আমার ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী হয়েছে। তোমরা যদি জামায়াত

শিবিরের রাজনীতি কর এবং তোমাদের পরিবারের সদস্যরা যদি রাজনীতি করে তাহলে তোমাদেরও ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী হবে। আবুল কাশেম তার বেতনের অর্ধেক টাকা জামায়াতের শিবিরের সদস্য সংগ্রহ ও জঙ্গি কর্মকান্ডের পিছনে ব্যায় করত। বাড়িতে থাকা অবস্থায় গভীর রাত পর্যন্ত মসজিদে ও বাজারের আসে পাশের নিরিবিলি জায়গায় মিটিং করে বর্তমান সরকার মুসলমানও ইসলামের জন্য অভিশাপ আখ্যায়িত করে সরকারকে উৎখাত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং এলাকার তরুন ছেলেদেরকে নিয়ে জঙ্গি কর্মকান্ড বীর দর্পে চালিয়ে যাচ্ছে। তার ব্যবহ্নত মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ইসলামী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখা ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ট করা  হলে তাকে পাওয়া যায়নি। ম্যানেজার (অপারেশন) মোঃ আবু-সামা এর মোবাইল বন্ধ থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। গোপনে গোপনে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে গেলেও এলাকার কেউ জানতেই পারেনি। এলাকার সবাই জানে সে ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী করে কিন্তু ভিতরে ভিতরে সে জঙ্গি কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।