কমলগঞ্জে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী

মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার | সোমবার, মে ১, ২০১৭
কমলগঞ্জে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী
 কমলগঞ্জে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় আদকানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দূল গনি দুলালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেছে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় পুনরায় গত ২৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক এ পরোয়ানা জারী করেন। কমলগঞ্জ উপজেলার ৭নং আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদাল হোসেনের প্রত্যয়ন পত্র ও সর্বশেষ প্রাপ্ত সংবাদে জানা গেছে, দুলাল পরকিয়ার মাধ্যমে হোম কোচিং সেন্টারের ছাত্রী জালালপুর গ্রামের আব্দুল মিয়ার কন্যা নাইমা আক্তার এর সাথে ২য় বিবাহে আবন্ধ হয়ে অবৈধ ভাবে দাম্পত্য জীবন শুরু করেছেন। এবং পুবালী ব্যাংক লিঃ আদমপুরবাজার শাখার (এস,বি-কিউ ৫৯৯০৮১৮) একটি ৫৮ হাজার টাকার ব্যাংক চেকের মাধ্যমে মামলা বিচারধীন সময়ে মৌলভীবাজারের গত ১৯ মার্চ স্বাক্ষরিত একজন আইনজীবির মাধ্যমে তালাক নামার নোটিশ প্রেরন করেছেন। মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জে উপজেলার ৬নং আলী নগর ইউনিয়নস্থ কালিপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের কন্যা সুলতানার বেগম এর সাথে ২০০৯ সালের ১৪ নভেম্বর (বালাম নং-৩৪, ক্রমিক নং- ১৩৮, পৃস্টা নং- ৬৬) ৩ লক্ষ এক হাজার টাকা ধার্য ক্রমে একই উপজেলার ৭নং আদমপুর ইউনিয়নের মোঃ আব্দুল কাদিও মিয়ার পুত্র আব্দুল গনি দুলাল (৩৫) এর সাথে সিদ্ব বিবাহ হয়। বিবাহের পর থেকে তাদের ঔরষে ১টি মেয়ে সন্তান ফাহিমা মাহজাবিন (৪) ও আল মুল তাকিম তালহা দেড় বছরের পুত্র সন্তান জন্ম গ্রহন করেন। বিবাহের পর থেকেই আদকানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দূল গনি তার বাড়ীতে এডুকেশন হোম নামীয় কোচিং সেন্টার দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর সুবাধে বিভিন্ন ছাত্রীর সাথে অনৈতিক সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়েন। এবং তার স্ত্রী সুলতানাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ও যৌতুক বাবদ ৪ লক্ষ টাকা পিত্রালয় থেকে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃস্টি করেন। দাবীকৃত টাকা না দিলে সে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয়।  ২০১৬ সালের ২৮ জুলাই সকালে একই ভাবে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন শুরু করলে মারান্তক ভাবে আহত হন। এ ঘটনায় স্বামী  মোঃ আব্দূল গনি দুলালকে এক মাত্র আসামী করে মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে  (মোং নং-৩৭০/২০১৬) দায়ের করলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০ এর ১১(গ) ধারার অপরাধ আমলে নিয়ে মোঃ আব্দূল গনি দুলালের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। গত ৩০ জানুয়ারী স্বেচাচায় ট্রাইব্যুনালে আন্তসমর্পন করে  তার স্ত্রীকে আগামী ধার্য তারিখের আগে নিজ জওজিয়তে নিয়ে দাম্পত্য জীবন যাপন করার শর্তে ও ১০ হাজার টাকা বন্ডে জামিন লাভ করেন। গত ২৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় ফৌজদারী কার্যবিধি ৭৫ ধারায় বিচারক এ পরোয়ানা জারী করেন ও কমলগনজ থানাকে ওয়ারেন্ট তামিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।  সুলতানা বেগম অভিযোগ করে বলেন- আমার স্বামী অবৈধ ভাবে জালালপুর গ্রামের আব্দুল মিয়ার কন্যা নাইমা আক্তার নামীয় এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক ভাবে ২য় বিবাহে আবদ্ধ হয়েছেন। কোন কাবিন ছাড়াই তার রক্ষিতা হিসাবে বাড়ীতে রয়েছে। অপরদিকে আমি মাননীয় আদালতে  বিচার প্রার্থী হবার পর মামলা পরিচালনা না করার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনদের নানা ভাবে হুমকি দামকি দেয়া হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৭ এপ্রিল মৌলভীবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের ধার্য তারিখে যেন আমি না আসি সে জন্য বিজ্ঞ পিপি পংকি আমাকে আদালতের বারান্ধায় আসতে নিষেধ করেন। তিনি আরো জানান, নিষেধ না মানলে আসামীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আমাকে জঙ্গি মহিলা বানিয়ে আদালতে সোর্পদ করবেন। আদকানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দূল গনি দুলাল এ প্রতিবেদককে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- পৌর মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান ও গন্যমান্য ব্যক্তি বিষয়টি স্থানীয় ভাবে মীমাৎসার চেস্টা করা হয়েছে, কিন্তু সুলতানা ও তার পরিবারের লোকজন মানেননি। নাইমা আমার চাচাতো বোন, আমার পিতাকে দেখা শুনা করার জন্য বাড়িতে এসেছে, আমি এখনও তাকে বিবাহ করিনি। উভয় পরিবারের মধ্যে চাচাতো বোনকে বিবাহের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে।