ঘুমধুম পুলিশ ইনচার্জের গোমর ফাঁস

আবদুর রহিম সেলিম, উখিয়া: | বুধবার, জুন ৭, ২০১৭
ঘুমধুম পুলিশ ইনচার্জের গোমর ফাঁস
  উখিয়ার পাশ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমঘুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এরশাদের নানা অজানা চাঞ্চল্যকর ঘটনার গোমর ফাঁস হতে চলছে। এ আশংকায় বর্তমানে বান্দরবান জেলা পুলিশ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের নিয়ে তার দূর্নীতি ও অপকর্ম ঢাকতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছে। গত ৫ মে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ঘুমধুম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ খালেদ সরওয়ার হারেছকে সাথে নিয়ে বান্দরবানে ইয়াবা সংক্রান্ত ঘটনা নিষ্পত্তি করতে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। গত ২৫ মে উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পাতাবাড়ি নলবনিয়া গ্রামের ফজল করিমের ছেলে ইদ্রিচ ইয়াবার চালান বহন করে ঘুমধুম বড়ই তলী এলাকায় আসলে ফাঁড়ির পুলিশ সংবাদ পেয়ে তাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। এ সময় তার কাছ থেকে পুলিশ ৬ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করলেও রহস্য জনক কারণে ২ হাজার পিছ ইয়াবা দিয়ে ইদ্রিচকে জেল হাজতে পাঠানো হয়। অবশিষ্ট ৪ হাজার পিছ ইয়াবা ঘুমধুম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হারেছ পুলিশের নিকট থেকে ক্রয় করে কক্সবাজার শহরে তার আরেকটি সিন্ডিকেটের নিকট চালানটি পাচার করে দেয়। এভাবে ঘুমধুমের পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি এরশাদ পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের ১৬ মাসে অন্তত কয়েক কোটি টাকার জব্দকৃত ইয়াবা মিয়ানমার বংশদূত জাহেদ আলম চৌধুরী ওরফে চোরাচালানী জাহেদের ছেলে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হারেছ ক্রয় করে অসংখ্য টাকা পয়সা ও সম্পদের মালিক হয়েছে। এমনকি টাকার জোরে সে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির পদটি ভাগিয়ে নিয়েছে। ঘুমধুম ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রশিদ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, সাবেক শিবির ক্যাডার ঘুমঘুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি এরশাদ পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর থেকেই আওয়ামীলীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। শুধু তাই নয় সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অধ্যুষিত অঞ্চল গুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও উস্কানির ঘটনা নিয়ে রাঙ্গামাটিতে চলমান সহিংসতার ঘটনার সাথেও পুুলিশের আইসি এরশাদের যোগসন্ধি থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে পাশ্ববর্তী উখিয়া থানায় যোগদানের তোরজোড় শুরু করেছে। প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মিশন নিয়ে বান্দরবান জেলা পুলিশ ও কক্সবাজার জেলা পুলিশের নিকট তদবির চালাচ্ছেন। এছাড়াও আওয়ামীলীগ নেতা হারেছকে ঘুমধুম পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র জব্দকৃত যাবতীয় ইয়াবাসহ চোরাইপণ্য বিক্রি করে ইতিমধ্যে পুলিশের আইসি এরশাদ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আবুল কালাম (স’মিল) বলেন, ঘুমধুম পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজী, আটক বাণিজ্য, ঘুষ লেনদেন, হরদম জব্দকৃত ইয়াবার বেচা-কেনা করে আইসি এরশাদ পুলিশ বিভাগের ভাবমূতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যা একজন সৎ এবং নিষ্টাবান পুলিশ অফিসারের পক্ষে কোন মতে সম্ভব নয় বলে আবুল কালামের অভিযোগ। এ ঘটনা নিয়ে আইসি এরশাদ স্থানীয় কর্মরত সাংবাদিকদের কথায়  কথায় মামলা এবং জেলে ঢুকানোর হুমকি দেন। কেউ তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় গালিগালাজ সহ ধার্তব্য অপরাধ করে থাকেন। তিনি ঘুমঘুমের নিরীহ জনসাধারণকে জিম্মি এবং বোকা বানাতে মাঝে মধ্যে মহিউদ্দিন চৌধুরীর ভাগনি জামাই এবং আ.জ.ম নাছিসেরর আতœীয় পরিচয়ে ঘুমধুম ইউনিয়ন থেকে গত ১৬ মাসে অন্তত ৫/৬ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আটক বাণিজ্যের মাধ্যমে। তবে তিনি এসব ঘটনা অস্বীকার করেন। লামা সহকারি পুলিশ সার্কেল মোহাম্মদ বলেন, পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে শীঘ্রই দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোঃ তহিদুল ইসলাম তহিদ বলেন, পুলিশের কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিভাগ অনেকটা পরিচ্ছন্ন। এক্ষেত্রে দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের কোন স্থান নেই। পুশিল বিভাগ আইসি এরশাদকে ঢাকা বিভাগের বদলীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে পুলিশের ঘনিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে।