পানি বৃদ্ধির ফলে তিন দিনে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে ৬০ পরিবার ও শতশত একর জমি নদী গর্ভে বিলিন

শওকত আলী মন্ডল রৌমারী (কুড়িগ্রাম) | মঙ্গলবার, জুলাই ৪, ২০১৭
 পানি বৃদ্ধির ফলে তিন দিনে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে
  ৬০ পরিবার ও শতশত একর জমি নদী গর্ভে বিলিন
  গত তিনদিনের ব্রহ্মপুত্রের ভাঙ্গনে বিলিন হয়েছে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৬০ পরিবার ও শতশত একর জমির রোপা ধান ও পাট চিনা কাউন তিল। শুক্রবার হতে ও মঙ্গলবার পর্যন্ত ক্ষর¯্রােতে ভাঙ্গনের তান্ডব লক্ষ্য করা যায় ওই এলাকায়। এ সময় নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে  ৬০টি পরিবারের ভিটেমাটি, সহায়সম্বল, গাছপালা, পাট, আখও ভবিষ্যতস্বপ্ন। গ্রামের মানুষ তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকেই ঘরবাড়িসহ কোন কিছু সরিয়ে নেওয়ার সময় পাচ্ছে না। অপর দিকে যাদুরচর দিগলাপাড়া নামক স্থানে বেঁড়ি বাঁধ ভেঙ্গে ভিতরে পানি ঢুকছে। কেউ সরকারী সড়কে,অন্যের ভিটায়, এমনকি অনেকে খোলাকাশের নিচে ছোট ছোট শিশুসহ গরু মহিষ ছাগল ভেড়া হাঁস মুরগি আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নদী থেকে ১-২কিলোমিটার দুরে হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা শহর ২ টি।  
রবিবার (০৩ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের নদী এলাকার বিভিন্ন গ্রামে ও রাজিবপুর উপজেলার মহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়ারচর বাজারে গেলে দেখা যায়, ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে মানুষের আহাজারি। ভাঙন এলাকা চরখেদাইমারী গ্রামের কৃষক জুলহাস আলী, আব্দুল কাদের, জাবেদ আলী, আশরাফ আলী, আব্দুল আলিম, আমির হামজা জানান, কয়েকদিনের নদী ভাঙ্গনে আমাদের ভিটে মাটি গাছ পালা ফসলাদী নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। আমরা এখান থেকে সরে যাওয়ার সময় টুকু পাচ্ছি না।
অপরদিকে রাজিবপুর উপজেলার মহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়ারচর বাজারের হামজা, জব্বার আলী, কাশেমসহ অনেক ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২৫ জুন রবিবার ভোররাত থেকে আচমকা ব্রহ্মপুত্রে ভাঙন দেখা দেয়। এতে তীব্র শ্রোতের কারনে ১৫-২০ মিনিটের ভিতরে বাজারটি নদী গর্ভে চলে গেল। অনেকেই ঘরবাড়িসহ দোকান পাট সরিয়ে নেওয়ার সময়টুকুও পাইনি। ফলে ২০-২৫টিরও বেশি পরিবারের ঘরবাড়ি দোকান পাট নদী গর্ভে চলে গেছে। কোন রকমে জীবনটা নিয়ে দৌড়ে বেঁচেছি। এরমধ্যেও ভেসে গেছে দোাকানের মালামাল. গরু বাচুর, ধান ভর্তি ডোল, বিছানাসহ অনেক আসবাবপত্র।
খেরুয়ারচর গ্রামের ষাটোর্ধ গোলবানু বেওয়া বলেন, ‘এমুন নদী ভাঙন বাপের জন্মেও দেহি নাইরে বাপু। আমার ৮ পোলা  তারা কিছুই নিতে পারে নাই। অনেক রাত্রিরে কোন রহমে ছোট ছোট নাতি-নাতনি গো লইয়া ভাইগা আইছি। এহন মানসের বাইত্তে থাহি। খাওন নাই, থাহনের জায়না নাই। এমনি কইরা কয়দিন যে চলবো ক্যারা জানে। আপনেরা আমাগো জন্যি কিছু এডা করেন। নইলে বাঁচুম ক্যামনে?’
অপরদিকে রৌমারী ৬ টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩ টি ইউনিয়ন চরশৌলমারী, বন্দবেড়, ও যাদুরচর ব্রম্মপুত্র ভাঙ্গনের কবলে। এতে ঘুঘুমারী, ফুলকারচর, খেওয়ারচর, সাহেবের আলগা, খেরুয়ারচর, বাইটকামারী, বাইশপাড়া, বলদমারা, ফলুয়ারচর, পালেরচর, কান্দাপাড়া, দিগলাপাড়া, ধনারচর চরের গ্রাম, চরপাখিউড়াতে মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তবসহ প্রায় দেড় শতাধীক পরিবারের ঘরবাড়ী  নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।    
গত  ক’দিন ধরে এমন ব্যাপক ভাঙন চললেও প্রশাসনের কোন তৎপরতা লক্ষ করা যায়নি। এব্যাপারে  রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাউজুল কবির জানান, এবিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে সরেজমিন প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।  
এদিকে বন্দবের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদের, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সাবেক এমপি জাকির হোসেন জানান, নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য কতবার মানব বন্ধন করা হলো এখন পর্যন্ত কোন ব্যাবস্থা হয়নি। নদী পারের মানুষ জনরা দুঃখ্য কষ্ট নিয়েই দিনাতী করছে। তাদের দেখার কেউ নেই।