খেতে চাওয়ায় বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি, | বুধবার, আগস্ট ১৬, ২০১৭

খেতে চাওয়ায় বৃদ্ধা মাকে নির্যাতন
খেতে চাওয়ার অপরাধে ৯৮ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা মাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মারপিট করার পর ওই বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে বের করেও দেয়া হয়েছে। স্থানীয়রা রাস্তা থেকে উদ্ধার করে ওই বৃদ্ধাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া ইউনিয়নে। ওই বৃদ্ধার নাম তাসলিমা খাতুন।

গ্রামবাসী জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের সফির উদ্দীন মারা যান। পরে তার স্ত্রী তাসলিমা খাতুন অনেক কষ্ট করে দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে বিয়ে দেন। কিছুদিন আগে বড় ছেলের ছেলে (নাতি) ভুল বুঝিয়ে তার কাছ থেকে স্বামীর ভাগের জমি রেজিস্ট্রি করে নেন। জমি নেয়ার পর থেকেই তার উপর নেমে আসে নির্যাতন।

সামান্য কিছুতেই ছেলে ও তাদের স্ত্রী বৃদ্ধা তাসলিমাকে শারীরিক নির্যাতন করতো। এছাড়া ঠিকমতো তার খোঁজখবরও নেন না। কষ্ট হলেও এসব নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে আসছিলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার সকালে খিদে পাওয়ায় তাসলিমা খাতুন বড় ছেলের বউয়ের কাছে ভাত চায়। এতে পুত্রবধূ তাকে গালিগালাজ করেন। জানতে পেয়ে ছেলে বদির উদ্দীন মায়ের মুখে আঘাত করেন। এতে তার বাম চোখের নিচের অংশ ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। এরপর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। পরে স্থানীয়রা বৃদ্ধা তাসলিমাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় ঠাকুরগাঁও আধুনিক হাসপাতালে।

বৃদ্ধার অন্য ছেলে মোসলেম উদ্দীন জানান, ‘ঘটনার সময় আামি বাড়িতে ছিলাম না। বাড়ি ফিরে জানতে পেয়ে আমি মাকে খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু পাইনি।’

হরিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, বাবা-মাকে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব সব সন্তানের। এজন্য একটি আইনও রয়েছে। বাবা-মায়ের ভরণ-পোষণ না করলে রাষ্ট্রীয়ভাবে ওই সন্তানের শাস্তির বিধান রয়েছে। কাজেই অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।