দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ কর্তৃক সহকারি শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা’র অভিযোগ!

শওকত আলী মন্ডল রৌমারী (কুড়িগ্রাম) | মঙ্গলবার, আগস্ট ২২, ২০১৭
দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ
অধ্যক্ষ কর্তৃক সহকারি শিক্ষককে হত্যার চেষ্টা’র অভিযোগ!
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্কুল শাখার সহকারি শিক্ষক কে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষকের বিরুদ্ধে। রোববার (২০ আগষ্ট) উপজেলার দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজ লাইব্রেরিতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান তার কার্যালয়ে স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেকের বেতন কে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হত্যার চেষ্টা করে। এবিষয়ে আগামী বুধবার সকাল ১১ টায় সমাধান কল্পে বসার সিদ্ধান্ত দেয় আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সামিউল ইসলাম জীবন।
স্থানীয় স্কুল এন্ড কলেজ সূত্রে জানাগেছে, চলতি মাসের বকেয়া বেতন উত্তোলনের জন্য বেতন শিট তৈরি করা জন্য স্কুল শাখার অফিস সহকারি মনিনুল ইসলাম ও কলেজ শাখার অফিস সহকারি মামুন অর রশিদ কে দায়িত্ব প্রদান করেন। পরে স্কুল ও কলেজ শাখার বেতন শিট সম্পন্ন করে অধ্যক্ষ নিকট প্রেরণ করে। কিন্তু কলেজ শাখার বেতন শিটে ভুল থাকায় ঢাকা শিক্ষামন্ত্রনালয় পাঠিয়ে দেয়।
এমতবস্থায় স্কুল শাখার বেতন উত্তোলন করার জন্য বারবার চাপ প্রযোগ করে ঐ প্রতিষ্ঠানের স্কুল শাখার শিক্ষকরা। গত বুধবার (৯ আগষ্ট) বেতন উত্তোলন করার কথা থাকলেও কেন বেতন শিট আজও সম্পন্ন হয়নি। তা জানতে গতকাল রোববার (২০আগষ্ট) স্কুল শাখার সহকারি শিক্ষক আব্দুল খালেক অফিস কক্ষে গিয়ে অফিস সহকারি মামুন কে এই কথা জিজ্ঞাসা করলে অফিস সহকারি মামুন বলে আমাকে বলে কোন লাভ নেই। পরে অফিস সহকারি মামুন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলে অধ্যক্ষ তার কক্ষে আলমারিতে তালা দিয়ে রাখছে।
অপর দিকে প্রিন্সিপাল (অধ্যক্ষ) স্কুল এন্ড কলেজে এসে তার কার্যালয়ে বসে তার ব্যাক্তিগত কাজ করার ফাকে কলেজ শাখার মামুন অধ্যক্ষ কে বলেন স্যার আপনি বেতন শিটটি আপনার কাছে আছে। অথচ আমার সঙ্গে স্যাররা বিভিন্ন কথা বলে।  তখন প্রশ্নের জবাবে যে শিক্ষক তোমাকে অন্যধন্য কথা বলেছে তার নাম বল। তখন অফিস সহকারি মামুন বলেন স্কুল শাখার আব্দুল খালেক স্যার বেতন শিট সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেছে। তাৎক্ষনিক ভাবে সকল শিক্ষক অধ্যক্ষের কার্যালয়ে আসার জন্য বলে ঐ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ।
“পরে শিক্ষকদের মধ্যে আলোচনার একপর্যায়ে কথাকাটি হয় এরই মধ্যে অধ্যক্ষকের পাশে থাকা ধারালো অস্ত্র (খনতা) দিয়ে স্কুল শাখার সহকারি শিক্ষক আব্দুল খালেক কে আঘাত করার চেষ্টা করে। কিন্তু পাশে অত্র প্রতিষ্ঠানের থাকা শিক্ষকরা এগিয়ে গেলে তাদেরও অপমান করে অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান।”
এ ব্যাপারে স্কুল শাখার সহকারি শিক্ষক আব্দুল খালেকের সঙ্গে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন । অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে ঢুকে আমাকে তার কার্যালয়ে ডেকে আমাকে বিভিন্নœ প্রশ্ন করতে থাকে এমন একপর্যায়ে আমাকে ধারালো অস্ত্র খনতা দিয়ে খুন করার চেষ্টা করে। এই অধ্যক্ষ শুধু আমার সাথে এইরকম ব্যবহার করেনা স্কুল এন্ড কলেজের প্রায় শিক্ষক ও কর্মচারিদের সাথেও এরকম ব্যাবহার করে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্কুল শাখার সহকারি শিক্ষক সহিদুর রহমান (বিএসসি) জানান, ঘটনাটির সত্যতা স্বীকার করেন।  
এ প্রসঙ্গে দাঁতভাঙ্গা স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান বলেন, “আমি যখন বিলে স্বাক্ষর করবো তখন তারা বেতন উত্তোলন করবে। কিন্তু আমি না স্বাক্ষর করলে তারা কিভাবে বেতন তুলবে। সব ইচ্ছা আমার হাতে। খন্তাদিয়ে মারার কথা বললে, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমার উপর খিপ্ত হওয়ায় তাকে খনতা দিয়ে মারার চেষ্টা করি এ কথা সত্য নয়। আমার সাথে শুধু তার কথার মধে একটু বাকবিতন্ডা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানে একজন নাম প্রকাশ্যে এক শিক্ষককে অধ্যক্ষের রুমে দা, খোন্তা, চাকু কোদালসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি সেখানে থাকে কেন ? সে বলে তার ভিতরে কেমন জানি সব সময়ের জন্য রুখ্যতা থাকে। তা কি কারন আমি জানিনা।
দাঁতভাঙ্গা স্কুল ও কলেজ পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছামিউল ইসলাম জীবন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি ফোনে জানতে পেরে আমার কলেজ থেকে দ্রুত মোটর সাইকেলে এসে জানতে পারি সহকারী শিক্ষক খালেকের সাথে বেতন নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে নাকি মারার জন্য খোন্তা উচিয়ে ছিল। তৎক্ষনাত অন্য শিক্ষকরা আটক করে। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী বুধবার সমাধান কল্পে   বসা হবে।
এ প্রসঙ্গে রৌমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহালম পারভেস জানান, বিষয়টি উপর এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।