ইলিশ অবরোধ জানেনা জেলেরা

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা: | সোমবার, অক্টোবর ২, ২০১৭
ইলিশ অবরোধ জানেনা জেলেরা

চলতি ইলিশ প্রজনন মৌসুমের চলমান ২২ দিনের অবরোধের বিষয়ে প্রচার-প্রচারনা না থাকায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের ইলিশ সম্পদ রক্ষা আইন ও ইলিশের ব্যাপক উৎপাদন। স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের কর্তব্য অবহেলার কারনে বলে দাবী করেন সাগর উপকুলের জেলেরা।
জানা গেছে, মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং ইলিশের ব্যাপক উৎপাদন হওয়ার লক্ষ্যে সরকার ইলিশ প্রজনন মৌসুম চলতি ০১ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারের উপড় নিষেধাজ্ঞা জারী করেন।

তারই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ কর্তৃক চলে ব্যাপক প্রচার-প্রচারনা। কিন্তু পটুয়াখালী জেলার বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত রাঙ্গাবালী উপজেলায় তেমন ভাবে প্রচার-প্রচারনা চালানো হয়নি মৎস্য বিভাগ থেকে। ফলে সাগরে ইলিশ শিকার কার্যক্রম চালাচ্ছেন জেলেরা। প্রথম দিন উপজেলা মৎস্য বিভাগ স্থানীয় নদ-নদী গুলোতে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু জেলেদের আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে আহরনকৃত মাছ জব্দ করে স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরন করেন। তবে মাছ বিতারন নিয়ে রয়েছে ঘোর অভিযোগ। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম দিন অন্তত ১শ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।

এর মধ্য জাটকা বাছাইা করে স্থানীয় একটি এতিমখানায় বিতরন করা হয়েছে এবং বাকি বড় সাইজের সকল ইলিশ মৎস্য কর্মকর্তাসহ তার সফর সঙ্গীরা ভাগ করে নিয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।   উপজেলার কাছিয়াবুনিয়া পুলঘাঁট এলাকার খুদ্র মৎস ব্যাবসায়ী মোঃ মনির হোসেনকে দেখাযায় ওই বাজারে ইলিশ বিক্র করতে।

নিশেধ থাকা সত্বেও ইলিশ বিক্র কেন করছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, স্যার আমারা মাছ কেনা বেছা কইরা খাই। আমরা কী দুনিয়ার খবর রাখি কবে কি হয়? আমারে কেউ কোন সময় জানায় নাই কবে হইতে ইলিশ বেছা বন্ধ করতে হইবে। আগে দ্যাখতাম সরকারী নিশেধ থাকলে গ্রামে ঘুরে মাইকিং করা হইত। এবছরতো মাইকিং করেনাই আমরা যানমু ক্যামনে।জেলে আঃ রশিদ মিয়া বলেন, আমাগো এলাকায় কোন মাইকিং করা হয়নি। স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বরও আমাগো কিছু বলেনি।

রাঙ্গাবালী সদর ইউপি চেয়াম্যান আলহাজ্ব সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, অবৈধ ভাবে যাতে কেউ মাছ ধরতে না পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও মৎস বিভাগ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে। আমার জানামতে মাইকিং হয়নি তবে দু-একদিন আগ থেকেই মাইকিং

, প্রচার-প্রচারনা চালানো দরকার ছিল।এবিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস কর্মকর্তা তারেক আজিজ বলেন, অনলাইনসহ বেশ কয়েকটি মাধ্যমে প্রচার-প্রচারনা চালানো হয়েছে। ইলিশ ভাগ করে নিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যারা মাছ পাইনি তারাই আমাদের নামে বদনাম করবে,এটাই স্বাভাবিক। যাদের মাছ এনেছি মুলত তারাই মিথাচার করছে।