কুড়িগ্রামের ৩ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, কৃষকরা দিশেহারা

কুড়িগ্রাম | রবিবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৭
কুড়িগ্রামের ৩ হাজার হেক্টর আমন ক্ষেতে পোকার আক্রমণ, কৃষকরা দিশেহারা
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রায় ৩হাজার হেক্টর আমন ক্ষেতে ব্যাপকভাবে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। রোগবালাই নাশক ওষুধ প্রয়োগ করেও প্রতিকার না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে কৃষকরা। এবারে চলতি আমন মৌসুমে প্রায় ১১হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চারা রোপন করা হয়। কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই কয়েক দফা বন্যা হওয়ায় কৃষকদের ফসলহানিসহ ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। তারপরেও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জীবন বাঁচানোর তাগিদে ধার-দেনা করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আমন ধানের বলান(চারা) সংগ্রহ করে রোপন করেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিচর্যার করে পূর্নাঙ্গ ক্ষেতে পরিনত করে। কিন্তু ২সপ্তাহ ধরে প্রাকৃতিক বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমন ক্ষেতে শুরু হয় খোলপঁচা, পাতা পোড়া ও পাতা মোড়ানো রোগের প্রার্দভাব দেখা দেয়। নিমিষেই তা ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আকার ধারণ করে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কৃষক নুরল হক প্রায় ৩ একর জমিতে আমন চারা রোপন করে। এর মধ্যে ৮০ শতক জমিতে পোকা আক্রমণ করে বিনষ্ট করেছে। ওই এলাকার মাহাবুবার রহমান পৌনে ২ একর জমির আবাদের মধ্যে ৫০শতক জমির ফসল বিনষ্ট হয়। মোঃ আবদুল হক দেড় একর জমিতে আমন ধানের চারা লাগায়। এর মধ্যে ৬০শতক জমিতে খোলপচা ও পাতা মোড়ানো রোগে ফসল বিনষ্ট হয়েছে। আঃ মজিদ ২০ শতক জমি আবাদ করেছে। এর মধ্যে সব টুকু জমিতেই এ রোগ দেখা দেয়। চাকির পশার ইউনিয়নের পদ্্রলোচন রায় ৫একর জমি আবাদ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ২এক জমিতে এ রোগ দেখা দেয়। মহেন্দ্র বর্ম্মন ১একর জমি আবাদ করে, এর মধ্যে ৫০শতক জমিতে এ রোগ দেখা যায়। রাজারহাট ইউনিয়নের মোঃ এনামূল হকের ৫০শতক জমিতে এ রোগ দেখা দেয়। মোকবুল হোসেন ১একর জমি আবাদ করেন। এর মধ্যে ১৫ শতক জমিতে এ রোগ দেখা দেয়। ঘড়িয়াল ডাঙ্গা ইউনিয়নের শিবেন চন্দ্র ২ একর জমি আবাদ করে। এর মধ্যে ৫০শতক জমিতে এ রোগ দেখা দেয়। ছিনাই ইউনিয়নের পঙকজ ভাদর ১ একর জমি আবাদ করে। এর মধ্যে ৬০শতক জমিতে ব্যাপক আক্রমণ করে। ১৪ অক্টোবর গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানান, যেসব ক্ষেতে পোকার আক্রমণ হয়েছে, সেসব ধান ক্ষেত দূর থেকে দেখলে মনে হয় ধান পাকার পর পাতা শুকিয়ে গেছে। কিন্তু তা নয়, ধানের শীষ বের না হতেই ধান গাছের পাতা শুকিয়ে যায়। আবার কিছু ধান ক্ষেতে ধান বের হওয়ার পর এ রোগ আক্রমণ করায় সব শীষের ধান চিটা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা রোগ প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করে ফল না পাওয়ায় ইউনিয়ন কৃষি বিভাগে যোগাযোগের চেষ্টা করে। সেখানে কৃষি বিষয়ক পরামর্শক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের খুঁজে না পেয়ে হতাশগ্রস্থ হয়ে ফিরে যায় বলে অনেক কৃষক অভিযোগ করেন। উপজেলার কৃষক মোস্তাফিজার রহমান, শফিকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, নুরল হক, শামসুল হক, রফিকুল ইসলাম, নাজিমখান ইউনিয়নের কৃষক কাজল কান্তি রায়, হাবিবুর রহমান, মজিবুর রহমান সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, হামরা ইউনিয়ন বিএস কোয়ার্টারে যায়া দেখি ওখানে কোন কৃষি কর্মকর্তা নাই। কোয়ার্টারোত আলদা মানুষ থাকে। কার কাছে পরামর্শ নিমো বাহে। এলা দ্যাখি সরকারী অফিসত বেসরকারী মানুষ। য্যাললা হামার দরকারত লাগে না। এ ছাড়া কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের কেউ মাঠ পর্যায়ে থাকে না। এমনকি তাদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা আসতে চেয়েও আসে না। বাধ্য হয়ে বাজারের সার ও কীটনাশকের দোকান থেকে সানটপ, ব্লেট, একতারা, সপসিন, ফলিকুর, লাটিভোসহ কয়েক প্রকারের কীটনাশক নিয়ে এসে জমিতে কয়েক দফা স্প্রে করা হয়। কিন্তু কোন উপকারে আসে নাই। সব মিলে উপজেলার প্রায় ৩হাজার হেক্টর রোপা আমনে খোলপঁচা, পাতা পোড়া ও পাতা মোড়ানো রোগের প্রার্দভাব দেখা যায়। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, এ উপজেলায় তেমন পোকার আক্রন হয়নি। কৃষকদের কীটনাশক, পটাশ সার ও থিয়োভিট স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কোয়ার্টারের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, কোয়ার্টার গুলো ধ্বসে পরায় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা অবস্থান করতে পারে না।