গ্যাসের অভাবে ভোলার বিসিকে গড়ে উঠছে না শিল্প প্রতিষ্ঠান

| মঙ্গলবার, নভেম্বর ৭, ২০১৭
গ্যাসের অভাবে ভোলার বিসিকে গড়ে উঠছে না শিল্প প্রতিষ্ঠান
গ্যাস সংযোগ না থাকায় ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে গড়ে উঠছে না নতুন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে যেসব প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে তাও চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে  মারাত্মক লোকসান গুণছেন ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, বিসিকের সড়ক ও বিদ্যুৎ সংযোগের বেহাল দশার কারণে বিসিকের প্রতি অনেকের আগ্রহ কমে গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিসিকে প্রয়োজনীয় উপকরণ, পর্যাপ্ত জায়গা, নিরাপত্তা এবং সহজ যোগাযোগ মাধ্যম হওয়ায় এখানে শিল্প কারখানার অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকার পরেও নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান হচ্ছে না। অনেকে প্লট নিয়েছেন কিন্তু গ্যাসের অভাবে ফ্যাক্টরি স্থাপন করছেন না।

সুত্র জানিয়েছে, ভোলা শহরের খেয়াঘাট সড়কের চৌমুহনী এলাকায় ১৯৯০ সালের দিকে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ভোলা বিসিক শিল্প নগরী। সেখানের মোট জমির পরিমাণ ১৪.৪৫ একর। সেখানে ৭২টি প্লট থাকলেও মাত্র ৩৭টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে। এ প্লটের মধ্যে বেশকিছু ফ্যাক্টরি ও কারখান স্থাপন করা হলেও জমজমাট হয়ে উঠেনি। এতে বেশিরভাগ প্লাট খালি পড়ে রয়েছে। এরমধ্যে আবার কিছু কিছু ফ্যাক্টরি নানা কারণে বন্ধও হয়ে গেছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভোলায় প্রচুর পরিমাণে গ্যাসের মজুদ থাকায় অনেক ব্যবসায়ীর আশা জেগেছিল বিসিক শিল্প নগরীকে ঘিরে। কিন্তু হঠাৎ করেই শিল্প এলাকায় গ্যাসের সংযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ীরা হতাশার মধ্যে পড়েছেন। অনেকে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যান্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। যারা ইতোমধ্যে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়েছেন তারাও দুশ্চিন্তায় আছেন।

বিসিকের ব্যবসায়ী আশিষ মিশ্র জানান, গ্যাসের ওপর নির্ভর করে আমরা বিসিকে একটি মুড়ির ফ্যাক্টরি স্থাপন করেছি, কিন্তু আজও গ্যাসের সংযোগ দেয়া হয়নি। তাই ফ্যাক্টরিটি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিসিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন বলেন, ভোলার বিসিক শিল্প নগরীতে বর্তমানে নানা সমস্যা রয়েছে এরমধ্যে গ্যাসের সংযোগ বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে অনেকগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তাই বিসিকে আরও জমজমাট করে তোলার লক্ষ্যে অতি দ্রুত গ্যাসের সংযোগ দেয়া জরুরি।

বিসিকে একটি ফিড, দুটি প্লাস্টিক কারখানা, একটি পাইপ, একটি আলকারতা, একটি টাইলস, একটি মবিল, একটি জুতার কারখানা চালু রয়েছে। কিন্তু নানা সমস্যার কারণে ওইসব প্রতিষ্ঠান জমজমাট হচ্ছে না। এছাড়াও মুড়িসহ বেশ কিছু কারখানা চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিসিক শিল্প নগরি ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ প্লট খালি পড়ে রয়েছে। বিদ্যুতের তার ও খুটির নাজুক অবস্থা। যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশংকা করা হচ্ছে। বিসিক সড়টির বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের চারপাশ জুড়ে ইট ও খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানালেন, গ্যাসের ওপর নির্ভর করেই বিসিকে বড় বড় প্রতিষ্ঠান এবং কারখানা স্থাপনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকলেও শুধু গ্যাস সংযোগ নেই বলে অনেকের আগ্রহ কমে গেছে।

ভোলা বিসিক শিল্প নগরীর হিসাব রক্ষক মো. ফারুক হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিসিকে ৭২টি প্লটের মধ্যে ৩৭টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু ৩৭টির মধ্যে কারখানা বা ফ্যাক্টরি তৈরি হয়েছে মাত্র ১৭টি, বাকি ২০টি প্লটে কোনো কারখানা তৈরি করা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিসিকের ৩৭টি প্লটের মধ্যে সব ব্যবসায়ী গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপন করবেন বলে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু গ্যাসের অভাবে তারা শিল্প প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে ভোলায় গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, গ্যাস নিয়ে যে জটিলতা ছিল তা এখন আর নেই, সরকার শিল্প নগরীগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে মোতাবেক আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ভোলার বিসিক শিল্প নগরিতে গ্যাসের লাইন টেনে সংযোগ দেয়ার কাজ শুরু হবে।