যশোরে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার

যশোর প্রতিনিধি, | বুধবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৭
যশোরে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার
অপহরণ ও গুম করার অভিযোগে যশোর কোতোয়ালি থানার সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার ২৪ ঘণ্টার আগেই তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাদী হীরা খাতুন।

বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানালে তা আমলে নেন আদালত।

তবে অনেক আইনজীবী বলছেন, যে পরিস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে- তা আইনের পরিপন্থী।

শহরের শংকরপুর এলাকার হীরা খাতুন গত  মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনুর রহমানের আদালতে সাত কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

বাদী আইনজীবী অজিত কুমার দাস জানান, বুধবার সকালে বাদী হীরা খাতুন তার সাথে দেখা করেন।

এসময় তিনি বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলাটি করা হয়েছিল। কিন্তু তা আপসে মীমাংসা হয়ে গেছে। একথা বলে বাদী মামলাটি প্রত্যাহার করার জন্য তাকে অনুরোধ করেন। পরে তা প্রত্যাহারের জন্য সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করা হয়। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

এদিকে মামলা প্রত্যাহরের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে আইনজীবীদের মাঝে। অনেকেই বলছেন, যে পরিস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে তা আইনের পরিপন্থী।

যশোর জজ কোর্টের আইনজীবী নুরুজ্জামান কাশেম জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই’কে মামলাটি তদন্ত করার জন্য গত মঙ্গলবারই নির্দেশনা দিয়েছিল আদালত। এমন পরিস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহার সম্ভব নয় বলে জানান এ আইনজীবী।

তিনি আরো জানান, ৩৬৪ ধারার মামলা বিচারের এখতিয়ার জেলা দায়রা জজ’র। সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটির নিস্পত্তি করতে পারেন না। যশোরের একাধিক সিনিয়র আইনজীবীই বলেছেন এমনটি।

যশোর আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাচ্চু বলেন, যেহেতু মামলাটির আসামিরা সকলেই প্রভাবশালী একইসাথে মাত্র একদিনের ব্যবধানে মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে, সেহেতু প্রশ্ন থেকেই যায়।

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে রাজি হননি মামলার বাদী হীরা খাতুন।

আলোচিত এ মামলায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার তিন এসআই, চার এএসআই ও নয়জন কনস্টেবলকে আসামি করা হয়।

এরা হলেন- যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই এইচএম শহিদুল ইসলাম, এসআই আমির হোসেন, এসআই হাসানুর রহমান, এএসআই রাজন গাজী, এএসআই সেলিম মুন্সি, এএসআই বিপ্লব হোসেন, এএসআই সেলিম আহম্মেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. রমজান, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল আবু বক্কার, কনস্টেবল মিজান শেখ, কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, কনস্টেবল রাজিবুল ইসলাম ও কনস্টেবল টোকন হোসেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছিল- গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার ছেলে সাইদ ওরফে ভাইপো সাইদ এবং তার বন্ধু শাওন শহরের পৌর পার্কে বেড়াতে যায়। ওই দিন বেলা ১২টার দিকে সাব্বির হোসেন নামে এক যুবক বাদীকে মোবাইল ফোনে জানান, পুলিশ সাইদ ও শাওনকে আটক করেছে। সাথে সাথে তিনি পৌর পার্কে যান এবং দেখতে পান সাইদ ও শাওনকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনি দৌড়ে গাড়ির কাছে গিয়ে পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে, তারা তাকে থানায় গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে থানার সামনে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকলেও তাকে থানায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। সন্ধ্যা সাতটার দিকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর ৭ এপ্রিল তিনি জানতে পারেন, তার ছেলে সাইদ ও শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। সাথে সাথে তিনি থানায় গিয়ে এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আদালতে পুলিশ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটা মামলা করেছে। এরপর তার ছেলের সন্ধানে তিনি বারবার পুলিশের কাছে গেলেও তার সাথে খারাপ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুর কোন খোঁজ মেলেনি। দুই লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও তাদের লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। সে কারণে তিনি আদালতে মামলা করেছেন।