শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে কলেজে তালা,পরীক্ষা দিতে পারেননি ২৫০ শিক্ষার্থী

বগুড়া প্রতিনিধি, | শনিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৭

শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে কলেজে তালা,পরীক্ষা দিতে পারেননি ২৫০ শিক্ষার্থী
শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে কলেজে তালা। নির্বাচনী পরীক্ষা দিতে পারেননি ২৫০ শিক্ষার্থী। প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল প্রস্তাবিত ডিগ্রি কলেজে।

জানা গেছে, কোন কারণ ছাড়াই কলেজে বরখাস্ত অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দীন কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে ২৫০ শিক্ষার্থী শনিবার নির্বাচনি পরীক্ষা দিতে পারেননি। এনিয়ে কলেজের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্য ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। শহীদ জিয়া মডেল প্রস্তাবিত ডিগ্রি কলেজের পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দু’দল শিক্ষকের মধ্য বিরোধ চলে আসছে। এনিয়ে কলেজে শিক্ষকদের মধ্য মারামারিসহ থানায় মামলার ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার এইচএসসি নির্বাচনি পরীক্ষার গ্রহণের তারিখ ছিল। তারিখ অনুযায়ী ২৫০ শিক্ষার্থী শনিবার পরীক্ষা দিতে আসে। এসময় কলেজের সকল কক্ষে তালা ঝুলতে দেখে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করেন। শিক্ষকরা তাদের জানিয়ে দেন- পরীক্ষা হবে না। এতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। কলেজ চত্বরে তারা পরীক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

সংবাদ পেয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসসহ অন্যান্য শিক্ষকরা এসে এ অবস্থা দেখতে পান। বরখাস্ত অধ্যক্ষ মাহাতাব উদ্দীন এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে কলেজের সকল কক্ষ বন্ধ করে দেয়ায় নির্বাচনি পরীক্ষা নিতে পারেননি এসব শিক্ষার্থীরা।

এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে গাবতলী শহীদ জিয়া মডেল ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, মাহাতাব উদ্দীনকে কলেজের সভাপতি বরখাস্ত করেছেন, তিনি তথ্য গোপন করে ব্যাংক থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করছেন। অচিরেই এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

মাহাতাব উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের রায়ে আমি শহীদ জিয়া মডেল ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ। আমার স্বাক্ষরে শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, দুই দিনের জন্য কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরীক্ষা না নিয়ে ও পূর্ব নোটিশ ছাড়াই হঠাৎ কলেজ বন্ধের বিষয়ে মাহাতাব উদ্দীন কোন মন্তব্য করেননি।

থানার ডিউটি অফিসার এএসআই সফিউল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌসের একটি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।