কমলা চাষে ভাগ্যবদল রাঙামাটির মধুসুধনের

নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭
কমলা চাষে ভাগ্যবদল রাঙামাটির মধুসুধনের
পাহাড়ে কমলা বাগান করে ভাগ্যবদল করেছেন রাঙামাটির নানিয়াচর উপজেলার সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নের নম কার্বারীপাড়া গ্রামের মধুসুধন তালুকদার। দুর্গম এলাকা ছেড়ে নানিয়াচর উপজেলা শহরে বসবাস করা মধুসুদন কমলার বাগান দেখতে মাঝে মাঝে গ্রামে যান।

সম্প্রতি ডানে সাবেক্ষ্যং এর নম কার্বারী পাড়ায় মধুর কমলা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, কমলার ভারে নুইয়ে পড়েছে কমলা গাছের ডালপালাগুলো। ভাঙন রোধে প্রতিটি ডালে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেস দেয়া  হয়েছে। কমলাগুলো এ বছর আকারে বড় এবং স্বাদেও মিষ্টি হয়েছে বলেন মধুসুধন।

মধু ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকা থেকে কমলার চাহিদা দেয়া হচ্ছে। গত বছর তিনি পাইকারি বিক্রি করলেও এ বছর নিজে কমলাগুলো বাজারজাত করবেন। এবার ১০-১২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি হবে আশা তার।

গত বছর পেয়েছেন প্রায় সাত লাখ টাকা। এ বছর চলতি নভেম্বরে মাসের শেষে দিকে পুরোদমে বিক্রি শুরু করবেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি ৩৫ টাকা করে তিন হাজার কমলার দাম অগ্রিম নিয়েছেন।

মধু বলেন, দুর্গমতার কারণে সাবেক্ষ্যং এলাকায় কলা, কাঠাল, জাম্বুরা উৎপাদন হলে বাজারজাতের সুবিধা না থাকায়  দাম পাওয়া যায় না। কমলা একসাথে অনেকগুলোবাজারে নেয়া যায়। দামও অন্যান্য ফলের চেয়ে বেশি।

এটি মাথায় রেখে ২০০৭ সালে দুই একর পাহাড়ে ৭০০ কমলা চারা লাগান। ২০১৪ সাল থেকে তিনি কমলা বিক্রি করেন।

এই চাষি বলেন, তার কোনো সমতল জমি নেই। সাত একর পাহাড় জমি আছে। এর মধ্যে দুই একর কমলা বাগান এবং পাঁচ একর সেগুন বাগান করেছেন। ২০০৫ সালের আগেও তিনি বিভিন্ন এলাকায় অন্যের বাসাবাড়ি নির্মাণ করে দিতেন। এলাকায় অধিকাংশ ঘর তার হাতের করা।

মধু বলেন, ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে তিনি প্রথম লাখ টাকা গুণেছেন কমলা বিক্রি করে। এরপর এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। পরে নানিয়াচর সদরের টিএন্ডটি এলাকা বাড়িসহ জমি ক্রয় করে স্ত্রী ও এক কন্যা, এক পুত্র নিয়ে বসবাস করছেন। নম কার্বারী পাড়ায় তার ঘর থাকলেও সেটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে।

মধু আর বলেন, আমি কমলার টাকা যথাযথ ব্যবহার করেছি। ছেলে ফার্মেসি ডিপ্লোমা শেষ করেছে। মেয়ে সামনে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। এখন আমার আপাতত টাকার জন্য চিন্তা করতে হয় না। এর আগে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। যা এলাকার মানুষ জানে। কষ্টের সুফল আজ আমি পাচ্ছি।

এলাকার বাত্তোমনি চাকমা (৩৩) বলেন, মধু ভাগ্যর পরিবর্তন হয়েছে আমাদের চোখের সামনে। আগে তিনি যে পরিশ্রম করেছেন তা আমরা দেখেছি। তিনি এখন এলাকায় সুখী মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

মধু বলেন, কমলার ক্ষতি কারক পোকা মারতে এক সময় তিনি রাতে বাগানে পড়ে থাকতেন। এখন বাগান দেখাশোনা করতে তিনজন লোক রেখেছেন। তারা বাগান দেখাশোনা করে। তাদের সাথে তিনি বাগান পরিচর্যার বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন। তার এ সফলতা দেখে এলাকায় অনেকে এখন কমলার বাগান করছে। তিনি অন্যান্যদের বাগান করতে উৎসাহিত করেন বলেন মধু।

নানিয়াচর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রদীপ জয় চাকমা ঢাকাটাইমসকে বলেন, নানিয়াচরের কমলা চাষিদের মধ্যে সফল একজন কমলা চাষি মধুসুধন। তার বাস্তব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি কৃষি অফিসের পরামর্শ গ্রহণ করেন। আগ্রহীরা কমলা চাষ করে যেন লাভবান হতে পারেন সেজন্য চাষিদের নিয়মিত কৃষি পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান প্রদীপ জয়।

জেলা কৃষি তথ্যমতে রাঙামাটি জেলায় কমলার চাষ হয় ৭৪৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাত হাজার ৬০৩ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক পবন কুমার চাকমা ময়মনসিংহ প্রতিদিনকে বলেন, সফল কমলা চাষি মধুর খবর আমরা রেখে তাকে কৃষি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। নানিয়াচরের মাটি কমলা চাষের জন্য উপযোগী। উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে কমলা বাগান আছে। নানিয়াচরে কমলার চাষ বাড়লেও জেলার অন্যান্য এলাকায় কমলার চাষ কমছে বলেন পবন।  কমলা চাষে বেশি পরিচর্যা প্রয়োজন হওয়ায় চাষিরা কমলা চাষে আগ্রহী নয় বলে এ চাষ কমে যাচ্ছে। আগে সাজেকে কমলা চাষ হলেও এখন তা কমেছে।