লক্ষ্মীপুরের সেই এডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমা প্রার্থনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৭

লক্ষ্মীপুরের সেই এডিসি ও ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমা প্রার্থনা

লক্ষ্মীপুরের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন শরীফকে সাজা দেয়ার ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও সাজা প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নুরুজ্জামান হাইকোর্টে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

বুধবার সকালে বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে তারা উপস্থিত হয়ে এ ক্ষমার প্রার্থনা করেন।

এডিসির পক্ষে অ্যাডভোকেট আবদুল বাসেত মজুমদার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন আদালতে বলেন, আমরা এ ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি আমাদের মাফ করে দেবেন।

গত ৪ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসন পরিচালিত শহরের কাকলি স্কুলের প্রবেশ পথে আগে-পরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ও ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফের বড় ছেলে মিনহাজের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় ডা. সালাহ উদ্দিন এগিয়ে এসে পরিচয় জানতে চান। কিন্তু এডিসি পরিচয় না দিয়ে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন।

পরে পুলিশ ডেকে ডাক্তারকে আটক করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় সালাহ উদ্দিন শরীফকে। খবর পেয়ে জেলায় কর্মরত চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটে যান। বিক্ষুব্ধ অবস্থায় চিকিৎসকরা প্রশাসনের সব সেবা কার্যক্রম ও সব হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ রাখার হুমকি দিয়ে ওই চিকিৎসকের মুক্তি দাবি করেন।

জেলা প্রশাসক হোমায়রা বেগমের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে চিকিৎসকরা তড়িঘড়ি করে সাজা দেয়ার বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রশ্ন তোলেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আপিল করলে সহযোগিতার আশ্বাস দেন চিকিৎসকদের।

গত ৭ ডিসেম্বর স্থানীয় সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন ও চিকিৎসকদের মধ্যে দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে এ ঘটনায় সমঝোতার কথা জানানো হয়। এসময় তারা একে অপরকে জড়িয়ে ধরার ছবিবন্দী হন ক্যামেরায়। সমঝোতা বৈঠকের পর ডা. সালাহ উদ্দিন শরীফ ও ওএসডিকৃত এডিসি শেখ মুর্শিদুল ইসলাম ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে বলে জানান।