তিন দিন ধরে যুবলীগ নেতা নদীতে পড়ে নিখোঁজ, গ্রেপ্তার ৭

পিরোজপুর প্রতিনিধি, | সোমবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০১৭
তিন দিন ধরে যুবলীগ নেতা নদীতে পড়ে নিখোঁজ, গ্রেপ্তার ৭
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বখাটেদের হামলায় খায়রুজ্জামান সবুজ নামে এক যুবক নদীতে পড়ে গিয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। হামলার শিকার হয়ে নদীতে পড়ে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া যুবলীগ নেতা সবুজের গত ৩ দিনেও কোন সন্ধান না পাওয়ায় চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন তার স্বজনরা।

ঘটনার পর ওই দিন শনিবার সন্ধ্যা থেকে নদীতে ডুবে যাওয়া সবুজকে উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।

খায়রুজ্জামান সবুজের বাড়ি খুলনার শেখপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় তার সাথে থাকা খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর সামছুল আরেফিন রনি নামে এক সার্ভেয়ারকে গুরুতর আহত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সার্ভেয়ার রনিকে প্রথমে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করার পর এখন তিনি সুস্থ রয়েছেন।

শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইন্দুরকানী ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী বঙ্গবন্ধু বাজার (গাজীরহাট) সংলগ্ন পানগুছি নদীতে ট্রলারে মাঝ নদীতে থাকা অবস্থায় চাঁদার দাবিতে বখাটে যুবকদের হামলার শিকার হন এরা দুজন। এ ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ওই সময়েই সাত যুবক ও ট্রলারের দুই মাঝিসহ নয়জনকে স্থানীয়রা ধাওয়া করে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় হাফিজ হাওলাদার, হাসিব, অহিদুজ্জামান পরশ, সাইফুল রানা, হাফিজুল ইসলাম, মাহামুদ ও  হাসিব নামে সাত যুবককে আটক করা হয়। এদের মধ্যে আটক হাফিজুল, হাসিব ও মাহামুদের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের দক্ষিণ গাজিপুর গ্রামে এবং অপর চারজনের বাড়ি ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নে। এছাড়া ট্রলারের মাঝি ছগির ও হাচান নামে দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

এদিকে এ ঘটনায় নিখোঁজ সবুজের ভাই মল্লিক আবিদ হাচান খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় ২৪ ডিসেম্বর আটক ওই ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। আটক ওই সাত যুবককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার রাত ৯টায় ইন্দুরকানী থানা থেকে সোনাডাঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই জেল্লাল হোসেন বলেন, সোনাডাঙ্গা থানায় এ ব্যাপারে মামলা হওয়ার পর ইন্দুরকানী থানা থেকে গ্রেপ্তারদের রবিবার রাতে নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার আসল রহস্য উৎঘাটনের চেষ্টা চলছে। তবে চাঁদার দাবিতে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে আহত রনি তাদের জানিয়েছে।

ইন্দুরকানী থানার এসআই আব্দুল আজিজ বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত সাত যুবককে আটক করা হয়েছে। খুলনার সোনাডাঙ্গা থানায় এ ব্যাপারে মামলা হওয়ায় আটকদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার রাতে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যুবককে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে সোমবার দুপুর নাগাদ নিখোঁজ সবুজের কোন সন্ধান আমরা পাইনি। উদ্ধার তৎপরতা এখনও অব্যাহত রয়েছে।