রুপা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল | রবিবার, জানুয়ারী ৭, ২০১৮
রুপা হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে আইনের ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাটিতে আদালতে দ্বিতীয় দফায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে।

রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এই সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এতে সাক্ষ্য দেন মোট চারজন। তারা হলেন- আব্দুর রশিদ, প্রবীণ এন কুমার বাদী, আবুল হোসেন ও রহিজ উদ্দিন।

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পিপি এ কে. এম মো. নাছিমুল আখতার জানান, রবিবার টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া এই সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেন। এতে সাক্ষ্য দেন মোট নয়জন। এর মধ্যে মামলার বাদী ও স্থানীয় আটজন।

দ্বিতীয় দিনের এই সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম পর্ব চলে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত। এতে মোট চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে প্রথমে সাক্ষ্য দেন আব্দুর রশিদ। দ্বিতীয় সাক্ষ্য দেন প্রবীণ এন কুমার বাদী, তৃতীয় সাক্ষ্য দেন মো. আবুল হোসেন ও চতুর্থ সাক্ষ্য দেন মো. রহিজ উদ্দিন।

আগামীকাল সোমবার (৮ জানুয়ারি) বাকি চারজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে বলে আদেশ দেন আদালতের বিচারক। আগামীকাল সাক্ষ্য দেবেন লাল মিয়া, হাসমত আলী, আব্দুর রৌফ ও জয়নাল আবেদীন।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ছোঁয়া পরিবহনের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীর (৫৫) বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ২০০৩)

৯ এর তিন ধারায় গণধর্ষণের অভিযোগ এবং দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ, ২০১ ধারায় লাশ গুমের অভিযোগ এবং ৩৪ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে চার্জশিটে। এতে ৩২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ, চিকিৎসকসহ পাঁচ-ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সহায়তায় ছিলেন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার টাঙ্গাইল জেলার সমন্বয়কারী আতাউর রহমান আজাদ। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন শামীম চৌধুরী দয়াল ও ঢাকা জর্জ কোর্টের আইনজীবী মো. দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে ৩ জানুয়ারি বুধবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবুল মনছুর মিয়ার আদালতে এই মামলার প্রথমবারের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ করে পরিবহন শ্রমিকরা। বাসেই তাকে হত্যার পর মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে রুপার মরদেহ ফেলে রেখে যায়। এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ওই রাতেই অজ্ঞাত পরিচয় মহিলা হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে রুপার মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মধুপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

পত্রিকায় প্রকাশিত ছবি দেখে তার ভাই হাফিজুর রহমান মধুপুর থানায় গিয়ে ছবির ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করেন। ২৮ আগস্ট এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা প্রত্যেকেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার আসামিরা এখন টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছেন।