সৌদিতে নিহত টাঙ্গাইলের দুজনের বাড়িতে শোকের মাতম

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল | সোমবার, জানুয়ারী ৮, ২০১৮

সৌদিতে নিহত টাঙ্গাইলের দুজনের বাড়িতে শোকের মাতম
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নয় বাংলাদেশির মধ্যে দুজনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। মৃত্যুর খবর শোনার পর থেকে নিহত এই দুইজনের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারের লোকজন এখন দিশেহারা।

নিহত দুজন হলেন- দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে আমিন মিয়া এবং কালিহাতী উপজেলার কস্তুরিপাড়া এলাকার হামেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম।

উভয়েই দারিদ্র্যের কষাঘাতে সৌদি আরব গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে এক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে এই দুই জনসহ নয় বাংলাদেশি।

সরেজমিনে নিহত দুইজনের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শোকের মাতম। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা তারা। মরদেহ ফিরে পাবেন কি না এ নিয়েও স্বজনদের মধ্যে শঙ্কা বিরাজ করছে। স্বজনদের মরদেহ দ্রুত ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবার সরকারের কাছে আর্থিকভাবে সহযোগিতারও আবেদন জানিয়েছেন।

দেলদুয়ারের ডুবাইল গ্রামের নিহত আমিন মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সন্তানকে হারিয়ে মা পাগলপ্রায়। নিহত আমিনুরের স্ত্রী বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। এলাকাবাসী তাদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের বাবা আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, ‘আমি খুব অসহায় মানুষ। ধার দেনা করে ছেলেকে গত নভেম্বরে সৌদি পাঠিয়েছি। আমার এখন কোনো সহায় সম্বল কিছু নাই। সরকারের কাছে একটাই আবেদন করি আমার ছেলেকে যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে দেয়া হয়। আমি আর কিছু চাই না। ছেলের লাশ দেখতে না পারলে আমার বেঁচে থেকে কি লাভ।’

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার বলেন, মাত্র দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছিল। সংসারের অভাব অনটন দেখে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য গত ১ নভেম্বর সৌদি আরবে যান তার স্বামী। কিন্ত এভাবে তার করুণ মৃত্যু হবে এটা ভাবতে পারি নাই। এখন আমি কি করবো, কোথায় যাবো।

মা আঙ্গুরি বেগম সন্তান জন্য বিলাপ করছেন আর বলছিলেন, ‘এখন আমি কি করমু। আমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনে দাও। আমি আমার বাবাকে দেখতে চাই।।’

ডুবাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস মিয়া বলেন, আমিনের পরিবারটি খুবই হতদরিদ্র। তাদের বাড়িভিটা ছাড়া আর কিছু নাই। তার বাবা অন্য মানুষের জমিতে বর্গাচাষী হিসেবে কাজ করে থাকেন। ছেলেকে ধার দেনা করে বিদেশ পাঠিয়েছিল। এই পরিবারটিকে আমি আর্থিকভাবে সহায়তার দাবি জানাচ্ছি।

অন্যদিকে কালিহাতী উপজেলার কস্তুরিপাড়া এলাকার হামেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলামের বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম।

হতদরিদ্র পরিবার শফিকুলকে হারিয়ে হতাশায় পড়েছেন। দু-বছর আগে সৌদি গেলেও ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি শফিকুল। জমিজমা বিক্রি করে শফিকুলকে সৌদি পাঠিয়ে পরিবার এখন নি:স্ব।

নিহত শফিকুলের বাবা-মাসহ স্বজনরা লাশের পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।