টাঙ্গাইলের খান পরিবারের নৌকার পাল না থাকলেও, নৌকার হাল তারা কিন্তু ছাড়েনি!

স্টাফ রিপোর্টারঃ | রবিবার, জানুয়ারী ২১, ২০১৮
টাঙ্গাইলের খান পরিবারের নৌকার পাল না থাকলেও, নৌকার হাল তারা কিন্তু ছাড়েনি!

এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাই আওয়ামীলিগ থেকে বহিষ্কার করা হলেও অসুস্থা থাকার কথা বলে হসপিটালে চলে রাজনৈতিক নেতা ও নিজ দলীয়  ক্যাডারদের সাথে সলা পরামর্শ। তাদের লোকের অনাগোনা থেকে বোঝা যায় খান পরিবারে নৌকার পাল না থাকলেও হালটা অনেকটা ধরে রাখার চেষ্ঠা করছে!

১৮ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদের ৫ম মৃত্যু বার্ষিকী চলে গেল। মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের স্ত্রী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাহার আহমদ এর দাবী দ্রুত বিচারকার্য শেষ করার। এবং বাকী আসামীদেরও অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানান। উল্লেখ্য, বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার দেহ কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার তিনদিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমদ বাদি হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি টাঙ্গাইল সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে এমপি আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিন ভাইসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গত ২০১৭ সালের (৩ ফেব্রুয়ারি) আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। তদন্ত চলাকালে বিগত ২০১৪ সালের (১১ আগস্ট) এমপি আমানুর রহমান খান রানার ঘনিষ্ট কর্মী আনিসুর রহমান রাজা গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে তিনদফায় মোট ১৫ দিন রিমান্ড শেষে ওই বছরের (২৭ আগস্ট) টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাহাদত হোসেনের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপর আসামী মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তার হন একই বছরের (২৪ আগস্ট)। তিনি দশ দিনের রিমান্ড শেষে (৫ সেপ্টেম্বর) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শেখ নাজমুন নাহারের আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেন।

উভয় আসামীর জবানবন্দিতে ফারুক আহমেদ হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানা, টাঙ্গাইল পৌরসভার তৎকালীন মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি, টাঙ্গাইল জেলা বণিক সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান কাকন ও তাদের ছোট ভাই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পার জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করলে এই হত্যাকান্ডের সাথে খান পরিবারের চার ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা প্রথম প্রকাশ পায়। এরপর থেকে এমপি রানা ও তাঁর ভাইয়েরা আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ ২২ মাস পলাতক থাকার পর এমপি রানা গত ২০১৭ সালের (১৮ সেপ্টেম্বর) এই আদালতেই আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এরপর থেকেই তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ও অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। বেশ কয়েক দফা উচ্চ আদালত ও নিন্ম আদালতে আবেদন করেও জামিন পাননি তিনি। তবে তার অপর তিন ভাই এখনও পলাতক আছেন।